ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে মোবাইল সেবা চালু রাখার পথ খুঁজছে বিটিআরসি

জ্বালানি সংকট ও বাড়তি লোডশেডিংয়ের প্রভাবে দেশের মোবাইল ফোন সেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে টেলিযোগাযোগ সেবা সচল রাখতে অপারেটর ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠকে বসছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন।

সংস্থাটি জানিয়েছে, ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে মোবাইল টাওয়ার, ডেটা সেন্টার ও কোর নেটওয়ার্ক অবকাঠামো সচল রাখতে জেনারেটরের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। তবে একই সময়ে জ্বালানি তেলের সংকট থাকায় জেনারেটর চালু রাখাও কঠিন হয়ে পড়ছে।

এ পরিস্থিতিতে বুধবার বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন, মোবাইল অপারেটর, এনটিটিএন অপারেটর ও টাওয়ারকো প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে একটি যৌথ বৈঠক করবে বিটিআরসি। পরদিন বিদ্যুৎ খাতের সংস্থাগুলোর সঙ্গে আরেকটি বৈঠকেরও পরিকল্পনা রয়েছে।

বিটিআরসি এক বার্তায় জানিয়েছে, দেশব্যাপী নিরবচ্ছিন্ন টেলিযোগাযোগ সেবা নিশ্চিত করতে মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ডেটা সেন্টারগুলোতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জ্বালানি ও ‘লোডশেডিংমুক্ত’ বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।

এর আগে, গত ১২ মার্চ ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে পাঠানো এক চিঠিতে এ খাতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ বরাদ্দ নিশ্চিত করার অনুরোধ জানানো হয়। পরে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসকদের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানানো হয়।

এ ছাড়া টাওয়ার সাইটে জ্বালানি পরিবহন ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা চেয়ে গত ২০ এপ্রিল আবারও চিঠি দিয়েছে বিটিআরসি।

চিঠিতে বলা হয়, অতিরিক্ত লোডশেডিং ও বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণে অনেক ক্ষেত্রে মোবাইল অপারেটরদের সাইট ও সার্ভার ডাউন হয়ে যাচ্ছে। এতে নেটওয়ার্ক ব্যবস্থাপনা ব্যাহত হচ্ছে এবং নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

জরুরি সেবা হিসেবে স্বীকৃতির দাবি

এদিকে টেলিযোগাযোগ অবকাঠামোকে জরুরি সেবার আওতায় এনে বিশেষ জ্বালানি বরাদ্দের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ টাওয়ারকো অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএ)।

সংগঠনটি বলছে, দেশে বর্তমানে ৪৫ হাজারের বেশি টেলিকম টাওয়ার রয়েছে, যেগুলো বিদ্যুৎ গ্রিড ও জেনারেটরনির্ভর ব্যাকআপ ব্যবস্থার ওপর চলে। জ্বালানি ঘাটতি অব্যাহত থাকলে এসব টাওয়ার সচল রাখা কঠিন হয়ে পড়বে, যা মোবাইল নেটওয়ার্কে বড় ধরনের বিঘ্ন তৈরি করতে পারে।

বিটিএ’র অন্তর্বর্তীকালীন সভাপতি সুনীল আইজ্যাক বলেন, দেশের টেলিযোগাযোগ সেবা এখন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। নিরবচ্ছিন্ন সেবা বজায় রাখতে এ খাতকে জরুরি সেবা হিসেবে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে মোবাইল সেবা ব্যাহত হয়ে কোটি গ্রাহক ভোগান্তিতে পড়তে পারেন।

শেয়ার করুন