কর্মসংস্থানে এআইয়ের বিরূপ প্রভাব কমাতে করপোরেশনগুলোর ভূমিকা

রঘুরাম জি রাজন: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মানুষের কর্মসংস্থানে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে। তবে এর গতি, ব্যাপ্তি ও কোন খাতে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়বে—সে চিত্রটা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট হয়ে ওঠেনি।

এআই গ্রহণের ক্ষেত্রে বড় প্রতিষ্ঠানগুলো এগিয়ে থাকলেও এখনো তা সীমিত পরিসরের। মূল বাধা হলো বিদ্যমান কর্মপ্রবাহে এআইকে কার্যকরভাবে যুক্ত করা এবং এর ব্যয় সম্পর্কে অনিশ্চয়তা।

এআইয়ের কারণে কর্মসংস্থানের ভবিষ্যৎ পুরোপুরি হতাশাজনক নয়। প্রযুক্তির স্বাভাবিক প্রভাব হিসেবে কিছু কাজ বিলুপ্ত হলেও অনেক কর্মী আরো উৎপাদনশীল হয়ে উঠবেন। একই সঙ্গে এআই উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে পণ্যের দাম কমাতে ও বিক্রি বাড়াতে পারে, ফলে কর্মসংস্থানও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে এআই নতুন উদ্যোক্তা ও ব্যবসা তৈরির খরচ কমিয়ে দেবে। এমনকি মাঝারি দক্ষতার কর্মীদেরও এআই উচ্চতর দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করতে পারে।

সম্ভাব্য কর্মচ্যুতির নেতিবাচক প্রভাব কমাতে সরকার ও করপোরেশনকে সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে। কর ব্যবস্থায় মানবশ্রমের তুলনায় এআই ব্যবহারের কোনো অযাচিত সুবিধা থাকলে তা দূর করা প্রয়োজন। এজন্য এআই ব্যবহারে কর আরোপ এবং কর্মীদের প্রশিক্ষণে কর প্রণোদনা দেয়া যেতে পারে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলোকে কর্মী ছাঁটাইয়ের বদলে পুনঃপ্রশিক্ষণ ও ধরে রাখার বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে।

কর্মীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আস্থাশীল করতে পারলে প্রতিষ্ঠানগুলোও লাভবান হবে। কর্মী উন্নয়নে করপোরেট আগ্রহ এরই মধ্যে বাড়ছে। এআই যুগের সবচেয়ে বড় ব্যবসায়িক চ্যালেঞ্জ হতে পারে, প্রযুক্তির সুবিধা নেয়ার পাশাপাশি মানুষের জন্য ভালো চাকরি নিশ্চিত করা।

রঘুরাম জি রাজন: রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার (আরবিআই) সাবেক গভর্নর ও আইএমএফের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ

শেয়ার করুন