নির্বাহী প্রকৌশলী ও পিডি নিয়োগের সিন্ডিকেটে জড়িত মন্ত্রীর দপ্তর থেকে ড্রাইভার

এলজিইডির প্রশাসন দখলে বেপরোয়া বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের দাগী প্রকৌশলীরা- নেপথ‍্যের নায়ক বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী মোঃ বেলাল হোসেন ।

স্থানীয় পর্যায়ে ছোট সেতু বা কালভার্ট নির্মাণ করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর- এলজিইডি। গ্রামীণ অবকাঠামো,শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান,যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে ছোট সড়কও নির্মাণ করে তারা। কিন্তু, এসব কাজে অনিয়ম-দুর্নীতির ব্যাপক অভিযোগ উঠেছে। যার মাধ্যমে অপচয় হচ্ছে জনগণের রাজস্বের সরকারি অর্থ। দীর্ঘদিন ধরে এসব অনিয়ম দুর্নীতি চলে আসলেও, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নেয়া হচ্ছে না কোনো ব্যবস্থা। বরং, এসব দুর্নীতিকে উৎসাহিত করার পেছনে কাজ করছে বড় একটি সিন্ডিকেট। এতে জড়িত সংস্থাটির শীর্ষপদে দায়িত্বে থাকা প্রধান প্রকৌশলীও।

তথ্য বলছে, ১৬ জুলাই জারি হওয়া এক অফিস আদেশে টাঙ্গাইল জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে পদায়ন করা হয় এলজিইডি সদর দপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) জাহানারা পারভীনকে। সরকারি নথি ও জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যানুযায়ী, টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর তার স্থায়ী ঠিকানা। গত ২ জুলাই স্থানীয় সরকার বিভাগ বদলি ও পদায়নসংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। সেখানে বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের কোনো কর্মকর্তাকে তার নিজ জেলা কিংবা স্বামী বা স্ত্রীর নিজ জেলায় পদায়ন করা যাবে না। এই বিধান যুক্ত করা হয়েছিল প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা এবং স্থানীয় প্রভাবমুক্তভাবে সরকারি দায়িত্ব পালনের সুযোগ সৃষ্টি করতে। কিন্তু নীতিমালা কার্যকরের মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে নিজ জেলায় একজন নির্বাহী প্রকৌশলীর পদায়নের ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে, নীতিমালাটি কি সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য? ফলে সদ্য জারি হওয়া নীতিমালার সঙ্গে এই পদায়ন সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না- এমন প্রশ্ন উঠেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এই পদায়নের পেছনে রয়েছে বড় বাণিজ্য। যাতে ভুমিকা রাখেন এলজিইডিতে স্বক্রিয় প্রধান প্রকৌশলীকে ঘিরে গড়ে উঠা সিন্ডিকেট। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তারা জানান, টাংগাইল জেলার নির্বাহী প্রকৌশলীর গাড়ি চালক নায়েব আলী কাজে লাগান প্রধান প্রকৌশলীর গাড়ি চালক রফিকের সংগে পূর্বের সখ্যতা। গাড়ি চালক নায়েব আলী এই নিয়োগে প্রধান প্রকৌশলীর ড্রাইভার রফিকের হাতে ৮৫ লাখ টাকা তুলে দেন। যা চলে যায় প্রধান প্রকৌশলীর সিন্ডিকেটের কাছে। এরপরই মূলত চূড়ান্ত হয় নিয়োগ। আর সামনে না হয়, টাঙ্গাইলের মন্ত্রীদের ডিও লেটার।

অভিযোগ রয়েছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্বক্রিয় বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের নেতাদের এখনও রাখা হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ পদে। যার পেছনে বড় ভুমিকা প্রধান প্রকৌশলী বেলাল হোসেনের। যাদের প্রত্যেকেই বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের পরিচালক। রয়েছে আরও অনিয়মের ঘটনা।

জানা গেছে, ছাত্রলীগের সাবেক কর্মী এবং বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলী সুনামগঞ্জ জনাব মোঃ আনোয়ার হোসেনকে সম্প্রতি ঢাকাতে ক্লোজ করা হয়েছিল । তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী প্রশাষনের পিএ সোহেল খবরটি তৎক্ষনাৎ আনোয়ার হোসেনকে পৌঁছে দেন । সাথে সাথে তদবির শুরু করেন আনোয়ার হোসেন। প্রধান প্রকৌশলীকে দেন ২০ লাখ টাকা আর একজন প্রভাশালী মন্ত্রীর পিএস ইউনুসকে দেয়া হয় ৫০ লাখ। ওই দিন রাতেই ক্লোজ করার আদেশটি বাতিল হয়। মাদারীপুরের একজন ঠিকাদার এই অর্থ পৌঁছে দেন। ওই ঠিকাদারের কয়েক হাজার কোটি টাকার কাজ সুনামগঞ্জে চলমান আছে ।

অভিযোগ রয়েছে, এপিএস ইউনুসের দাপটে খুবই বেপরোয়া এলজিইডির সেই চক্র। যারা আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে বদলি ও পদায়ন বাণিজ্যে মেতে উঠেছেন।

এসব বিষয়ে কথা বলার জন্য এপিএস ইউনুসকে ফোন দেয়া হলেও পাওয়া যায় নি। আর এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) মো. বেলাল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তিনি সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে, একই ধরণের নিউজের বিষয়ে ভিন্ন আরেকটি গণমাধ্যমকে তিনি বলেছিলেন, এলজিআরডি মন্ত্রীর নির্দেশে এই বদলি করা হয়েছে। এ ছাড়া লালমনিরহাটের বদলি বাতিল করা হয়েছে এলজিআরডি মন্ত্রী ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর নির্দেশে। নারায়ণগঞ্জের বদলি বাতিল হয়েছে এলজিআরডি মন্ত্রীর নির্দেশে। তিনি বলেন, ‘আমি নিজ উদ্যোগে কোনো বদলি করিনি এবং বাতিলও করিনি। প্রমাণ ছাড়া আমি কোনো কাজ করি না। সুতরাং অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না।’

শেয়ার করুন