দেশে সহজলভ্য সবজির মধ্যে কলমি শাক অন্যতম। দাম কম ও সহজে পাওয়া গেলেও অনেক সময় এটি অবহেলিত থেকে যায়। অথচ পুষ্টিবিদদের মতে, এই শাকে রয়েছে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, আয়রনসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান, যা শরীর সুস্থ রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। নিয়মিত খাদ্যতালিকায় কলমি শাক রাখলে নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানো সম্ভব।
লিভারের যত্নে উপকারী
কলমি শাক লিভারের কার্যক্ষমতা ঠিক রাখতে সহায়তা করে। এতে থাকা কিছু প্রাকৃতিক উপাদান শরীর থেকে ক্ষতিকর বিষাক্ত পদার্থ বের করতে সাহায্য করে বলে বিশেষজ্ঞরা জানান। জন্ডিসসহ লিভারজনিত সমস্যায় উপকার পেতে অনেকেই এই শাক খাওয়ার পরামর্শ দেন।
হৃদ্যন্ত্রের সুরক্ষায় ভূমিকা
এই শাকে থাকা বিটা-ক্যারোটিন ও ভিটামিন সি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। ফলে রক্তনালিতে ক্ষতিকর চর্বি জমার ঝুঁকি কমে এবং হৃদ্রোগের সম্ভাবনা হ্রাস পায়। সুস্থ হার্টের জন্য নিয়মিত শাকসবজি খাওয়ার পাশাপাশি কলমি শাকও রাখতে পারেন খাদ্যতালিকায়।
ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়ক
কলমি শাকে বিভিন্ন ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে, যা শরীরের ফ্রি র্যাডিক্যালস কমাতে সহায়তা করে। এসব উপাদান কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভূমিকা রাখতে পারে। তাই দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ থাকতে এ শাক উপকারী হতে পারে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি
ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ হওয়ায় কলমি শাক শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। নিয়মিত খেলে সর্দি-কাশি ও ভাইরাসজনিত সংক্রমণের ঝুঁকি কমতে পারে।
চোখের সুরক্ষায় কার্যকর
চোখের সুস্থতার জন্য ভিটামিন এ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কলমি শাকে এই ভিটামিন পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকায় এটি দৃষ্টিশক্তি রক্ষায় সহায়ক। বিশেষ করে শিশুদের খাবারে এ শাক যুক্ত করলে চোখের যত্নে উপকার পাওয়া যেতে পারে।
পুষ্টিবিদদের মতে, মৌসুমি ও দেশীয় শাকসবজি নিয়মিত খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুললে শরীরের সার্বিক সুস্থতা বজায় রাখা সহজ হয়। কলমি শাকও হতে পারে সেই স্বাস্থ্যকর অভ্যাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।









