রাজা ভগদত্তের বারো তীর্থের দিঘি বা সুতানালা দিঘি

রাশিদুল আলম শিমুল: টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার শোলাকুড়ি ইউনিয়নে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী ‘সুতানালা দিঘি’ রাজা ভগদত্তের বারো তীর্থের দিঘি নামে পরিচিত। এই দিঘির ইতিহাস ও ঐতিহ্য বেশ প্রাচীন। কথিত আছে, এ অঞ্চলের গহীণ অরণ্যে বাস করতেন রাজা ভগদত্ত। মাতৃভক্ত এই রাজার মা একবার ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়েন। কোনো চিকিৎসায় তিনি সুস্থ না হওয়ায় স্বপ্নে দেখেন বারো তীর্থের জল দিয়ে স্নান করলে তিনি আরোগ্য লাভ করবেন। মায়ের আদেশে রাজা ভগদত্ত ১২ রাজকর্মীকে ঘোড়ায় করে পাঠিয়ে দেন বারো তীর্থের জল আনতে। তারা ভারতের বৃন্দাবন, মথুরা, প্রয়াগ, গয়া, কাশি এরকম বারো তীর্থ থেকে জল এনে বর্তমানে শোলাকুড়ি যে স্থানে দিঘি সেখানকার মাঝখানে রাজার মাকে বসিয়ে বৈশাখের অমাবস্যার রাতে স্নান করালে তিনি আরোগ্য লাভ করেন। পরে রাজা বারো তীর্থের পবিত্র জল সংরক্ষণের লক্ষ্যে সেখানেই দীঘি খননের ব্যবস্থা করেন। দিঘি খননের জন্য কতটা জায়গা নির্ধারন করা হবে তা পরিমাপের জন্য একটি সেলাই করার সুতার গুটি নিয়ে সেই গুটির নাল লম্বায় যতদূর যায় ততদূর পর্যন্ত লম্বা দিঘি খনন করা হয় । সেই দীঘিই রাজা ভগদত্তের বারো তীর্থের জলের দিঘি বা সুতানালা দিঘি হিসেবে বিশেষভাবে পরিচিত। এই কাহিনীকে ঘিরে তখন থেকেই এই দিঘির জলে পূণ্যস্নান, পূজা অর্চনাসহ নানা আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। ঐতিহ্যবাহী এই দিঘি দেখতে অনেকেই ঘুরতে আসেন মধুপুরের শোলাকুড়িতে। শোলাকুড়ি বাজারের পশ্চিমেই এই দিঘির অবস্থান। শান বাঁধানো ঘাট নিয়ে বৈচিত্র্যময় এই দিঘির পূর্বপাশে আদর্শগ্রাম ও পশ্চিম পাশে গুচ্ছগ্রাম নিয়ে দেশের বৃহত্তম দিঘি হিসেবে এই দিঘির পরিচিতি রয়েছে। এই দিঘির পানি দুই গ্রামের মানুষের পানির চাহিদা মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ।

রাশিদুল আলম শিমুল
০২ এপ্রিল ২০২৬

শেয়ার করুন