জ্বালানি সংকটে ১৮ বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ, গ্রামেই বাড়তি ভোগান্তি


দেশে জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বিদ্যুৎ খাতে। গ্যাস ও তেলের সরবরাহে ঘাটতির কারণে ১৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্র পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এতে উৎপাদন কমে গিয়ে বাড়ছে লোডশেডিং, যার চাপ তুলনামূলক বেশি পড়ছে গ্রামাঞ্চলে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বর্তমানে দেশে দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৫ হাজার মেগাওয়াট। এর বিপরীতে উৎপাদন হচ্ছে গড়ে ১৪ হাজার মেগাওয়াটের মতো। ফলে প্রায় ১ হাজার মেগাওয়াটের ঘাটতি থাকছে। গরম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই ব্যবধান আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক দিনে বিভিন্ন সময় ৮০০ থেকে ১৪০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং করতে হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকার বাইরে লোডশেডিংয়ের পরিমাণই বেশি।

গ্রামে দিনে কয়েক দফা বিদ্যুৎহীনতা

রংপুরের পীরগাছা উপজেলার বাসিন্দা আমজাদ হোসেন বলেন, দিনে ৭ থেকে ৮ বার বিদ্যুৎ যাচ্ছে। প্রতিদিন ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। এতে কৃষিকাজের পাশাপাশি ঘরের কাজেও সমস্যা হচ্ছে।

একই ধরনের অভিযোগ এসেছে রাজশাহী ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের গ্রামগুলো থেকেও। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কখন বিদ্যুৎ যাবে আর কখন আসবে—এ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

শহরের তুলনায় কম সরবরাহ

জাতীয় গ্রিড ব্যবস্থাপনায় দেখা যায়, বিদ্যুতের চাহিদা বেশি হওয়ায় ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় সরবরাহ তুলনামূলক বেশি রাখা হচ্ছে। ফলে পশ্চিমাঞ্চল ও গ্রামীণ এলাকায় সরবরাহ কমে যাচ্ছে।

একদিনের হিসাবে দেখা গেছে, মোট লোডশেডিংয়ের বড় অংশই ঢাকার বাইরে হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সরবরাহের এই বৈষম্যের কারণে গ্রামে ভোগান্তি বাড়ছে।

জ্বালানি সরবরাহে চাপ

বিদ্যুৎ খাতের কর্মকর্তারা বলছেন, মূল সমস্যা জ্বালানি সরবরাহে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও কয়লার দাম বেড়েছে। একই সঙ্গে এলএনজি আমদানিও ব্যাহত হচ্ছে। ফলে অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রয়োজনীয় জ্বালানি পাচ্ছে না।

এ অবস্থায় তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কমিয়ে গ্যাস ও কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলো থেকে উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। তবে গ্যাসের সরবরাহও সীমিত।

বন্ধ ও আংশিক চালু কেন্দ্র

বর্তমানে বন্ধ থাকা ১৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে ১০টি গ্যাসভিত্তিক এবং ৮টি তেলভিত্তিক। পাশাপাশি আরও ৩৫টি কেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না।

বিপিডিবির একজন কর্মকর্তা বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে উৎপাদনে প্রভাব পড়ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিকল্প উৎস থেকে উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।

সামনে চ্যালেঞ্জ

গরম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুতের চাহিদা আরও বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সে ক্ষেত্রে জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি না হলে লোডশেডিং আরও বাড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বল্পমেয়াদি সমাধানের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে এমন পরিস্থিতি বারবার ফিরে আসবে।

শেয়ার করুন