শুক্রবার, ২৭শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আইডিএলসি ফাইন্যান্সের খেলাপি ঋণ বেড়েই চলছে, আশঙ্কাজনক হারে কমেছে সুদজনিত আয়

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আইডিএলসি ফাইন্যান্স পিএলসি খেলাপি ঋণের বেড়াজাল থেকে বের হতেই পারছে না। বরং যতই দিন যাচ্ছে কোম্পানিটির ততই খেলাপি ঋণের মাত্রা বেড়েই চলেছে। শুধু কি তাই? কোম্পানিটির সুদজনিত আয়ও কমেছে আশঙ্কাজনক হারে। এমন পরিস্থিতিতে ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) খাতের কোম্পানিটির সুশাসন নিয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, সদ্য বিদায়ী বছরে (৩১ ডিসেম্বর ২০২৫) দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি যথেষ্ট স্থিতিশীল ছিল আগের বছরের (৩১ ডিসেম্বর ২০২৪) তুলনায়। এই সময়ে ভঙ্গুর ব্যাংক খাতও মোটামুটি ঘুরে দাঁড়িয়েছে। আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, দেশের এমন স্থিতিশীল পরিস্থিতিতেও আইডিএলসি ফাইন্যান্স তার ঋণ খেলাপি কমাতে পারেনি। ফলে প্রতিষ্ঠানটিতে থাকা আমানতকারীদের অর্থ ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে বলে মত প্রকাশ করেছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, সদ্য বিদায়ী বছরে (৩১ ডিসেম্বর ২০২৫) দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি যথেষ্ট স্থিতিশীল ছিল আগের বছরের (৩১ ডিসেম্বর ২০২৪) তুলনায়। এই সময়ে ভঙ্গুর ব্যাংক খাতও মোটামুটি ঘুরে দাঁড়িয়েছে। আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, দেশের এমন স্থিতিশীল পরিস্থিতিতেও আইডিএলসি ফাইন্যান্স তার ঋণ খেলাপি কমাতে পারেনি। ফলে প্রতিষ্ঠানটিতে থাকা আমানতকারীদের অর্থ ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে বলে মত প্রকাশ করেছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।

কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে, সদ্য বিদায়ী বছরের প্রথম নয় মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর, ২০২৫) আইডিএলসি ফাইন্যান্সের ঋণ খেলাপির পরিমাণ এসে দাঁড়িয়েছে ৫৭৩ কোটি ৬ লাখ ৫ হাজার ১৫১ টাকা। আর ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে যা ছিল ৫০২ কোটি ২৭ লাখ ৬১ হাজার ৯৫ টাকা। মাত্র নয় মাসের ব্যবধানে প্রতিষ্ঠানটির খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৭০ কোটি ৭৮ লাখ ৪৪ হাজার ৫৬ টাকা বা ১৪ শতাংশ।

সদ্য বিদায়ী বছরের আর্থিক প্রতিবেদন এখনো প্রকাশ করেনি আইডিএলসি ফাইন্যান্স। ফলে কোম্পানিটির প্রকাশিত সদ্য বিদায়ী বছরের প্রথম নয় মাসের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন থেকে আরও জানা গেছে, সুদজনিত আয় আশঙ্কাজনক হারে কমে গিয়েছে।

জানা গেছে, সদ্য বিদায়ী বছরের প্রথম নয় মাসে আইডিএলসি ফাইন্যান্সের সুদজনিত আয় হয়েছে ২৮৬ কোটি ৯৪ লাখ ৪২ হাজার ৫৮৭ টাকা। এর আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ৩৭৩ কোটি ৪৩ লাখ ৫০ হাজার ৮৯৭। এক বছরের ব্যবধানে সুদজনিত আয় কমেছে ৮৬ কোটি ৪৯ লাখ ৮ হাজার ৩১০ টাকা বা ২৩ শতাংশ।

এদিকে আইডিএলসি ফাইন্যান্সে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের মালিকানা কমেছে ৩৮ শতাংশ। তথ্য বিশ্লেষণে জানা গেছে, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে কোম্পানিটির উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কোম্পানিটিতে মালিকানা ছিল ৫৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ। আর ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে তা এসে দাঁড়িয়েছে ৩৫ দশমিক ১২ শতাংশ। গত মাসেও (৩১ জানুয়ারি, ২০২৬) কোম্পানিটিতে তাদের মালিকানা ছিল ৩৫ দশমিক ১২ শতাংশ।

এতো অল্প সময়ের মধ্যে কোম্পানিটিতে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের মালিকানা আশঙ্কাজনকহারে কমে যাওয়ায় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মাঝে দুশ্চিন্তা বিরাজ করছে।

তারা বলছেন, বর্তমানে আইডিএলসি ফাইন্যান্সের ম্যানেজমেন্টে সুশাসনের অভাব থাকায় কোম্পানিটির খেলাপি ঋণ তরতর করে বৃদ্ধি পাচ্ছে। কোম্পানিটিতে সুশাসনের যথেষ্ট অভাব রয়েছে।

বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট নুরুল হক বলেন, আইডিএলসি ফাইন্যান্স আর্থিকভাবে ভালো অবস্থায় নেই। কোম্পানিটি এক সময় অনেক ভালো ডিভিডেন্ড (লভ্যাংশ) দিতো। কিন্তু এখন তাদের ডিভিডেন্ড প্রদান অনেক কমে গেছে। শেয়ার দরেও তেমন পরিবর্তন নেই। যে-কারণে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা কোম্পানিটিতে বিনিয়োগ করে আশানুরুপ ফল পাচ্ছেন না।

এসব ব্যাপারে আইডিএলসি ফাইন্যান্সের অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর সৈয়দ জাভেদ নূর বলেন, দেশে ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) খাতের খেলাপি ঋণ ৩০ শতাংশের উপরে। আর আইডিএলসি’র খেলাপি ঋণ মাত্র সাড়ে ৪ শতাংশ। অর্থাৎ, খাতভিত্তিক বিবেচনায় আমরা তুলনামূলকভাবে যথেষ্ট ভালো অবস্থানে আছি। কিন্তু আইডিএলসি’র খেলাপি ঋণের পরিমাণ গত কয়েক বছরে কিছুটা বেড়েছে কেন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, গোটা খাতের স্বাস্থ্য যেহেতু ভালো নয়, আমরাও এই ক্ষতির কিছু অংশ বহন করতে বাধ্য। তবে আমরা শতভাগ প্রভিশন রেখেছি, সুতরাং আমাদের গ্রাহক ও আমানতকারীদের অর্থ পুরোপুরি নিরাপদে রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, আইডিএলসি ফাইন্যান্সের ঋণ খেলাপি কেন বাড়ছে সেটি তাদেরকে প্রশ্ন করা হবে। এছাড়াও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগ আইডিএলসির সামগ্রিক বিষয় দেখছে।

উল্লেখ্য, আইডিএলসি ফাইন্যান্সের পরিশোধিত মূলধন ৪৩৬ কোটি ৪৮ লাখ ৩০ হাজার টাকা, যেখানে পুঁজিবাজারের বিভিন্ন শ্রেণীর বিনিয়োগকারীদের (উদ্যোক্তা/পরিচালক ব্যতিত) মালিকানা রয়েছে ৬৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ। আজ (১ মার্চ) কোম্পানিটির শেয়ার দর ছিল ৪১ টাকা ৫০ পয়সা।

শেয়ার করুন