দেশে বহুল পরিচিত ও জনপ্রিয় শাকগুলোর মধ্যে পাটশাক অন্যতম। সুস্বাদু এই শাকটি যেমন রান্নায় বৈচিত্র্য আনে, তেমনি পুষ্টিগুণেও সমৃদ্ধ। স্পেশালাইজড গ্যাস্ট্রোলিভার কেয়ারের পুষ্টিবিদ ইসরাত জাহান জানিয়েছেন, নিয়মিত খাদ্যতালিকায় পাটশাক রাখলে নানা উপকার পাওয়া যায়।
পুষ্টিবিদ বলেন, পাটশাক ভাজি, ডাল বা বিভিন্ন রান্নায় খাওয়া যায়। বিশেষ করে যে ঋতুতে পেটের সমস্যা বেশি দেখা যায়, সে সময়েই পাটশাকের প্রাপ্যতা থাকে। দীর্ঘদিনের পেটের সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিদের জন্য এটি উপকারী। অন্যান্য অনেক শাক খেলে যাদের গ্যাস বা অস্বস্তি হয়, তারা তুলনামূলকভাবে পাটশাক সহজে হজম করতে পারেন। কোলাইটিস বা আঁশযুক্ত খাবারে অস্বস্তি হয়—এমন ব্যক্তিরাও পরিমিত পরিমাণে পাটশাক খেতে পারেন।
পাটশাকের পুষ্টিগুণ
প্রোটিনের উৎস:
পাটশাক উদ্ভিজ্জ প্রোটিনের ভালো উৎস। এতে বিভিন্ন ধরনের অ্যামিনো অ্যাসিড রয়েছে, যা শরীরের জন্য উপকারী। যারা প্রাণিজ প্রোটিন কম খেতে চান, তাদের জন্য এটি ভালো বিকল্প হতে পারে।
ভিটামিন সি সমৃদ্ধ:
এতে প্রচুর ভিটামিন সি রয়েছে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক এবং সর্দি-কাশি ও জ্বরের ঝুঁকি কমাতে ভূমিকা রাখে।
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য:
পাটশাক শরীরের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে।
ভিটামিন কে:
রক্ত জমাট বাঁধার প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে।
রক্ত পরিশোধনে সহায়ক:
পাটশাককে প্রাকৃতিক রক্তপরিষ্কারক হিসেবেও বিবেচনা করা হয়।
ভিটামিন এ:
দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে, ত্বকের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে এবং ভিটামিন ডি শোষণে সহায়তা করে।
ফাইবার সমৃদ্ধ:
এতে থাকা আঁশ হজমশক্তি উন্নত করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সহায়ক।
সতর্কতা
পুষ্টিবিদ ইসরাত জাহান জানান, যাদের কিডনি সমস্যা রয়েছে বা প্রোটিন গ্রহণে বিধিনিষেধ আছে, তারা পরিমিত পরিমাণে পাটশাক খাবেন। এছাড়া যাদের অ্যালার্জির সমস্যা রয়েছে, তাদেরও খাদ্যতালিকায় এটি সীমিত রাখা উচিত।
সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে পরিমিত পাটশাক গ্রহণ শরীরের জন্য উপকারী হতে পারে।









