আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর সদরঘাটে দেখা গেছে ঈদের মতো জনস্রোত। নিজের ভোট নিজে দেওয়ার প্রত্যাশায় শত কষ্ট উপেক্ষা করে গ্রামের পথে ছুটছেন হাজারো মানুষ। লঞ্চ টার্মিনালজুড়ে মানুষের ভিড়, ব্যস্ততা আর উত্তেজনায় সৃষ্টি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ।
সন্ধ্যায় সদরঘাটে কথা হয় সোহেল আহমেদের সঙ্গে।
পটুয়াখালীগামী এই তরুণ রাজধানীর মোহাম্মদপুরে সবজি বিক্রি করেন। স্ত্রী ও মাকে নিয়ে সকাল থেকেই বাড়ির উদ্দেশ্যে বের হলেও দীর্ঘ সময় বাসের টিকিট না পেয়ে শেষ পর্যন্ত লঞ্চে যাত্রা করেন। তিনি জানান, ২০১১ সালে ভোটার হলেও আজ পর্যন্ত ভোট দিতে পারেননি। এবার জীবনের প্রথম ভোট দেওয়ার আশায় সব কষ্ট ভুলে বাড়ি ফিরছেন তিনি।
সোহেল বলেন, “আগেও ভোট দিতে গিয়েছিলাম, কিন্তু দিতে পারিনি। এবার মনে হচ্ছে শান্তিতে ভোট দিতে পারবো। তাই এত কষ্ট হলেও যাচ্ছি। ভোট দিতে পারলেই এই কষ্ট আর কষ্ট মনে হবে না।”
বরিশালগামী লাইলি আক্তারও প্রথমবার ভোট দিতে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, অফিস থেকে চার দিনের ছুটি নিয়ে আগেভাগেই রওনা হয়েছেন। যানজটের কারণে মিরপুর থেকে সদরঘাটে পৌঁছাতে সময় লেগেছে প্রায় চার ঘণ্টা। তার ভাষায়, “জীবনের প্রথম ভোট দেবো—এই আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না।”
ভোলার উদ্দেশ্যে পরিবারসহ যাত্রা করা একটি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির কর্মকর্তা রাজিব আহসান বলেন, “দীর্ঘদিন পর মানুষ ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে বলেই এমন উৎসবমুখর পরিবেশ। গত কয়েকটি নির্বাচনে মানুষ ভোট দিতে পারেনি। এবার দেশজুড়ে পরিবর্তনের আশা কাজ করছে।”
যাত্রীচাপ বাড়ায় সদরঘাট এলাকার ব্যবসায়ীরাও ব্যস্ত সময় পার করছেন। ফল বিক্রেতা জসিম উদ্দিন জানান, কয়েকদিন ধরেই ঈদের সময়ের মতো বেচাকেনা চলছে। তার মতে, ভোটকে সামনে রেখেই মানুষের এই বাড়ি ফেরা।
এদিকে যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ। সংস্থাটির যুগ্ম পরিচালক (নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা) মোবারক হোসেন জানান, আজ নিয়মিত লঞ্চের পাশাপাশি দ্বিগুণ সংখ্যক স্পেশাল লঞ্চ চালানো হচ্ছে। প্রতিটি রুটে অতিরিক্ত লঞ্চ দেওয়া হয়েছে এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ঠেকাতে ভাড়ার চার্ট টানানো হয়েছে।
সার্বিকভাবে, ভোটাধিকার প্রয়োগের প্রত্যাশায় মানুষের এই ঢল নির্বাচনী পরিবেশে নতুন এক উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে। সাধারণ মানুষের আশা—শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিয়ে দেশের জন্য একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা করা।





