শুক্রবার, ২৭শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

‘হাহা’ রিঅ্যাক্টে ক্ষুব্ধ হল সংসদ, শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে নোটিশ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ফরহাদ হোসেন হলে হল সংসদের সাধারণ সম্পাদকের (জি এস) দেওয়া বার্তায় ‘হাহা’ রিঅ্যাক্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক আবাসিক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘিরে হল ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

হল সংসদের দপ্তর সম্পাদক মুহাম্মদ হারুনুর রশিদের স্বাক্ষরিত এক বিশেষ নোটিশে বলা হয়, ইদানীং হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণায় ‘সামির হাসান’ নামের একটি আইডি থেকে ধারাবাহিকভাবে আপত্তিকর রিয়েক্ট এবং শিষ্টাচারবহির্ভূত মন্তব্য আসছে। এ বিষয়ে একাধিক অভিযোগ হল সংসদের কাছে জমা পড়েছে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়। সর্বশেষ হল সংসদের জি এস কর্তৃক গ্রুপের পরিবেশ ও শৃঙ্খলা সংক্রান্ত ঘোষণায় ওই আইডি থেকে ‘ধৃষ্টতাপূর্ণ’ রিয়েক্ট দেওয়া হয়েছে দাবি করে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে রাত ১২টার মধ্যে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়। অন্যথায় তার বিরুদ্ধে নীতিগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও নোটিশে সতর্ক করা হয়।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী হিসেবে দাবি করা ক্রিমিনোলজি বিভাগের ২০২৩–২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সামির বলেন, হলের গ্রুপে প্রায়ই নানা ধরনের উদ্ভট ও হাস্যকর বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। সে ধরনের একটি বার্তায় তিনি কেবল ‘হাহা’ রিয়েক্ট দিয়েছেন। কিন্তু সেই রিয়েক্ট দেওয়াকেই কেন্দ্র করে এখন তাকে ব্যাখ্যা দিতে বলা হচ্ছে এবং তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হচ্ছে, যা তার কাছে আরও বেশি হাস্যকর বলে মনে হয়েছে।

সামির আরও বলেন, সামান্য সমালোচনা বা ভিন্ন প্রতিক্রিয়া সহ্য করার মানসিকতা যদি না থাকে, তাহলে হল সংসদের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ ও দায়িত্বশীল কাঠামোতে তারা কীভাবে নেতৃত্ব দেবে, তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে। তিনি মনে করেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সহনশীলতার জায়গা থেকে বিষয়টি নতুন করে বিবেচনা করা উচিত।

শহীদ ফরহাদ হোসেন হল সংসদের জিএসের সাথে ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে শহীদ ফরহাদ হোসেন হল সংসদের ভিপি বলেন, নোটিশটি দেওয়ার পেছনে একটি বড় প্রেক্ষাপট রয়েছে। সামির হল সংসদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে দেওয়া প্রায় প্রতিটি নোটিশে ধারাবাহিকভাবে ‘হাহা’ রিঅ্যাক্ট দিয়ে আসছিলেন। একই সঙ্গে তিনি গ্রুপে অশালীন ভাষা ব্যবহার করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এক পর্যায়ে ওই ব্যক্তি একজন সিনিয়র শিক্ষার্থীকে ফোন করে একটি বিষয় “বুঝিয়ে দেওয়ার” কথা বলেন, যা অনেকের কাছে হুমকির ইঙ্গিত হিসেবে ধরা পড়ে। এর আগেও আরেকজন শিক্ষার্থী একজন সাংবাদিককে এ ধরনের ফোন করে হুমকি দেওয়ার একটি ঘটনা ঘটেছিল বলে জানান তিনি। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছে শুধু এটুকুই জানতে চাওয়া হয়েছে যে তিনি কেন হল সংসদের গ্রুপে এমন আচরণ করছেন। বিষয়টি নিয়ে কাউকে অফিসে ডাকা হয়নি এবং কোনো শাস্তিমূলক পদক্ষেপও নেওয়া হয়নি।

এ ঘটনায় হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের একটি অংশ বলছেন, একটি রিয়েক্টকে কেন্দ্র করে এমন নোটিশ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে হল সংসদের পক্ষ থেকে শৃঙ্খলা রক্ষার যুক্তিও তুলে ধরা হচ্ছে।

শেয়ার করুন