শুক্রবার, ৬ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সঠিকভাবে যাকাত আদায় হলে যৌনকর্মে জড়াতে হতো না: ধর্ম উপদেষ্টা

দেশে সঠিকভাবে যাকাত আদায় ও বণ্টন নিশ্চিত করা গেলে কাউকে যৌনকর্মকে পেশা হিসেবে বেছে নিতে হতো না—এমন মন্তব্য করেছেন ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাজধানীর অফিসার্স ক্লাবে আয়োজিত ১৪তম যাকাত ফেয়ার অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশের সমাজব্যবস্থায় যৌনকর্ম একটি দুঃখজনক বাস্তবতা। অথচ ইসলামে যাকাত ব্যবস্থা যদি যথাযথভাবে কার্যকর থাকত, তাহলে দারিদ্র্যজনিত কারণে কাউকে এমন পেশায় নামতে হতো না। তিনি বলেন, যাকাত কোনো দান বা অনুগ্রহ নয়—এটি গরিবের ন্যায্য অধিকার।

যাকাত ব্যবস্থাপনায় প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি বলেন, সেন্টার ফর যাকাত ম্যানেজমেন্ট (সিজেডএম) যেভাবে যাকাতকে সংগঠিত ও কাঠামোবদ্ধ করার চেষ্টা করছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। ইসলামের দীর্ঘ ইতিহাসে যাকাত রাষ্ট্রীয়ভাবে আদায় করা হতো। কিন্তু মুঘল ও ব্রিটিশ আমলে এসে তা ব্যক্তি পর্যায়ে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে, ফলে এর সামাজিক প্রভাব অনেকটাই কমে গেছে।

তিনি আরও বলেন, সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যারা যাকাত দেন না, তাদের ঈমান নিয়ে প্রশ্ন উঠে। দেশে অনেক ধনী ব্যক্তি নিয়ম অনুযায়ী যাকাত পরিশোধ করেন না, যা সমাজে বৈষম্য বাড়াচ্ছে। তাই যাকাত বিষয়ে ব্যাপক জনসচেতনতা গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্ব এক গভীর দার্শনিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই সংকটের তিনটি দিক রয়েছে—গন্তব্য নির্ধারণ, সেই গন্তব্যে পৌঁছানোর সঠিক পথ এবং সেই পথের উপযুক্ত উপকরণ। এমনকি জাতিসংঘও আজ এই সংকটে ভুগছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ড. জিল্লুর রহমান বলেন, সেন্টার ফর যাকাত ম্যানেজমেন্ট যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, তা শুধু জাতীয় নয়, বৈশ্বিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ। যাকাতের একটি আর্থিক দিক রয়েছে, তবে এর নৈতিক দায়িত্ব আরও বড়। যাকাত দেওয়ার মাধ্যমে দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না; এই অর্থ কীভাবে এবং কোথায় ব্যয় হচ্ছে, সেটিও তদারকি করা জরুরি।

তিনি বলেন, যাকাত প্রদানের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটি দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পরিচালিত হলে সমাজে এর ইতিবাচক প্রভাব আরও স্পষ্ট হবে।

শেয়ার করুন