কিশমিশ ছোট হলেও পুষ্টিগুণে ভরপুর। রান্নাঘরে পায়েস, পোলাও কিংবা মিষ্টি—সবখানেই কিশমিশের ব্যবহার চোখে পড়ে। তবে শুধু স্বাদের জন্য নয়, স্বাস্থ্য সচেতন মানুষ এখন কিশমিশ খাচ্ছেন শরীর ভালো রাখার আশায়। কিন্তু প্রশ্ন হলো—সোনালি কিশমিশ ভালো, না কি কালো কিশমিশ?
বর্তমানে অনেকেই খালি পেটে ভেজানো কিশমিশ বা কিশমিশের পানি পান করছেন। এই অভ্যাস জনপ্রিয় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সোনালি কিশমিশের পাশাপাশি কালো কিশমিশও আলোচনায় এসেছে। দেখতে একরকম হলেও, উপকারিতার দিক থেকে এই দুই ধরনের কিশমিশের মধ্যে রয়েছে বড় পার্থক্য।
মুম্বাইয়ের পুষ্টিবিদ শ্বেতা জে পঞ্চালের মতে, কিশমিশ বেছে নেওয়ার সময় শুধু স্বাদ নয়, তৈরির প্রক্রিয়া ও পুষ্টিগুণ জানা জরুরি। চলুন জেনে নেওয়া যাক—
কালো কিশমিশ কেন বেশি উপকারী?
কালো কিশমিশ সাধারণত প্রাকৃতিক উপায়ে রোদে শুকিয়ে তৈরি করা হয়। এতে কোনো কৃত্রিম রং বা রাসায়নিক ব্যবহার করা হয় না। ফলে এর পুষ্টিগুণ অক্ষুণ্ন থাকে।
কালো কিশমিশের উপকারিতা:
এতে প্রচুর আয়রন ও ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স থাকে, যা রক্তস্বল্পতা কমাতে সাহায্য করে।
পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (PCOS) ও প্রিমেনস্ট্রুয়াল সমস্যায় ভোগা নারীদের জন্য উপকারী।
অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও পলিফেনল প্রদাহ কমিয়ে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
প্রি-বায়োটিক ফাইবার অন্ত্রের ভালো ব্যাকটেরিয়াকে সক্রিয় রাখে, ফলে হজম ভালো হয়।
নিয়মিত খেলে ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্যও উন্নত হয়, কারণ এটি হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে।
সোনালি কিশমিশ কতটা নিরাপদ?
সোনালি কিশমিশ দেখতে আকর্ষণীয় হলেও এর রং পুরোপুরি প্রাকৃতিক নয়। দীর্ঘদিন সংরক্ষণ ও উজ্জ্বল রং ধরে রাখতে এতে সালফার ডাই-অক্সাইড ব্যবহার করা হয়।
সোনালি কিশমিশের সীমাবদ্ধতা:
সালফার ডাই-অক্সাইড হজমের সমস্যা তৈরি করতে পারে।
অ্যাজমা, গ্যাস্ট্রিক বা সংবেদনশীল পেটের মানুষের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
নিয়মিত বেশি পরিমাণে খেলে পেটফাঁপা, অন্ত্রের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
দীর্ঘমেয়াদে লিভারের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও থাকে।
তবে এতে পটাশিয়াম থাকায় অল্প পরিমাণে খেলে শরীরে শক্তি জোগাতে পারে।
তাহলে কোনটি খাবেন?
যদি স্বাস্থ্য উপকারিতার দিকটি বিবেচনা করেন, তবে কালো কিশমিশই বেশি নিরাপদ ও উপকারী। বিশেষ করে যাদের রক্তস্বল্পতা, হরমোনজনিত সমস্যা বা হজমের দুর্বলতা রয়েছে, তাদের জন্য কালো কিশমিশ ভালো পছন্দ।









