শুক্রবার, ৬ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

যৌন হয়রানি প্রতিরোধ অধ্যাদেশে নীতিগত অনুমোদনসহ ১১ সিদ্ধান্ত নিল উপদেষ্টা পরিষদ

কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ অধ্যাদেশ–২০২৬-এর নীতিগত অনুমোদনসহ ১১টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বৈঠক শেষে বিকেলে রাজধানীর বেইলি রোডের ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সিদ্ধান্তগুলোর বিস্তারিত তুলে ধরেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

তিনি জানান, বৈঠকে কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ অধ্যাদেশ–২০২৬ এবং পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ অধ্যাদেশের খসড়া নীতিগতভাবে অনুমোদন পেয়েছে। একই সঙ্গে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ অধ্যাদেশ–২০২৬-এর খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে।

এছাড়া বাংলাদেশ প্রাণী ও প্রাণীজাত পণ্য সংঘনিরোধ অধ্যাদেশ–২০২৬ নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে বলে জানান তিনি।

উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে প্রতিবছর ২৩ মার্চকে ‘বিএনসিসি ডে’ হিসেবে ঘোষণার প্রস্তাবও অনুমোদিত হয়েছে।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে জাতিসংঘের নির্যাতন ও অন্যান্য নিষ্ঠুর, অমানবিক বা অবমাননাকর আচরণ বা শাস্তিবিরোধী কনভেনশন–এর ৭০(১) ধারার আওতায় বাংলাদেশ যে ঘোষণা দিয়েছিল, তা প্রত্যাহারের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া ক্যারিবীয় দেশ গায়ানায় বাংলাদেশের একটি নতুন কূটনৈতিক মিশন (সারফেয়ার্স পর্যায়ে) স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ২০২৫–২০২৮ সময়কালের আমদানি নীতি আদেশের খসড়া অনুমোদন পেয়েছে।

আন্তর্জাতিক পারিবারিক আইনের ক্ষেত্রে অগ্রগতি হিসেবে নেদারল্যান্ডসভিত্তিক হেগ কনভেনশন অন সিভিল অ্যাসপেক্টস অব ইন্টারন্যাশনাল চাইল্ড অ্যাবডাকশন–১৯৮০-এ বাংলাদেশের পক্ষভুক্ত হওয়ার প্রস্তাবও বৈঠকে অনুমোদিত হয়েছে।

এছাড়া নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ–২০২৬ এবং কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ–২০২৬-এর খসড়ার নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

উপদেষ্টা পরিষদের এসব সিদ্ধান্ত নারীর সুরক্ষা জোরদার, মানবাধিকার রক্ষা, ক্রীড়া খাতের উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণ, বাণিজ্য সহজীকরণ এবং নগর উন্নয়নে কাঠামোগত সংস্কারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।

শেয়ার করুন