আগামী ২৮ জানুয়ারি থেকে রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) শুরু হতে যাচ্ছে চার দিনব্যাপী ১৮তম বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল প্লাস্টিক, প্যাকেজিং অ্যান্ড প্রিন্টিং ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফেয়ার। শিল্পখাতের এই আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী চলবে আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) রাজধানীর পল্টনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মেলার আয়োজন সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন বাংলাদেশ প্লাস্টিক দ্রব্য প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিজিএমইএ) সভাপতি সামিম আহমেদ।
তিনি জানান, বিপিজিএমইএ ও হংকংভিত্তিক ইয়োরকার্স ট্রেড অ্যান্ড মার্কেটিং সার্ভিস কো. যৌথভাবে এবারের মেলার আয়োজন করছে। প্রদর্শনীতে ১৮টি দেশের ৩৯০টির বেশি আন্তর্জাতিক ও দেশীয় ব্র্যান্ড অংশগ্রহণ করবে। মেলায় ৮০০টিরও বেশি স্টলে আধুনিক যন্ত্রপাতি, কাঁচামাল, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী সমাধান প্রদর্শিত হবে।
চীন, ভারত, ইতালি, জাপান, ভিয়েতনাম, তাইওয়ান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, তুরস্ক, যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া, কোরিয়া ও থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের সর্বশেষ প্রযুক্তি ও পণ্য তুলে ধরবে বলে জানান আয়োজকরা।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ব্যবস্থা, আধুনিক মেশিনারির ব্যবহার এবং টেকসই শিল্পায়নকে উৎসাহিত করাই এই মেলার অন্যতম লক্ষ্য। প্রদর্শনীর পাশাপাশি চার দিনব্যাপী প্লাস্টিক শিল্প নিয়ে একাধিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে টেকসই উৎপাদন, স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি, রিসাইক্লিং, নতুন উদ্ভাবন এবং বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হবে।
বিপিজিএমইএ সভাপতি সামিম আহমেদ লিখিত বক্তব্যে বলেন, এই মেলায় দেশীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো আধুনিক যন্ত্রপাতি, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি এবং ভবিষ্যৎমুখী শিল্প সমাধান উপস্থাপন করবে। এতে শিল্প উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন ব্যবসায়িক সুযোগ তৈরি হবে এবং তরুণ প্রজন্ম আধুনিক শিল্পখাত সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাবে।
দর্শনার্থীদের জন্য প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে রাত ৭টা পর্যন্ত মেলা উন্মুক্ত থাকবে।
কৃষি খাতে প্লাস্টিকের গুরুত্ব তুলে ধরে সামিম আহমেদ বলেন, ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে আধুনিক কৃষিতে প্লাস্টিক একটি কার্যকর সমাধান হিসেবে কাজ করছে। মালচিং ফিল্ম মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখতে, আগাছা নিয়ন্ত্রণে ও তাপমাত্রা সামঞ্জস্য রাখতে সহায়তা করে, ফলে উৎপাদন বাড়ে এবং পানির ব্যবহার কমে।
তিনি আরও বলেন, গ্রিনহাউজ ও পলিহাউসে ব্যবহৃত প্লাস্টিক কভার চরম আবহাওয়া থেকে ফসলকে রক্ষা করে এবং সারা বছর চাষাবাদ সম্ভব করে। একইভাবে ড্রিপ ও স্প্রিংকলার সেচ ব্যবস্থায় প্লাস্টিক পাইপ পানির অপচয় কমিয়ে উৎপাদন দক্ষতা বাড়ায়।
নার্সারি ট্রে, ফসল সুরক্ষা জাল, সাইলেজ ও প্যাকেজিং উপকরণেও প্লাস্টিক ব্যবহারের মাধ্যমে ফসল কাটার পর ক্ষতি কমে এবং সংরক্ষণ ও পরিবহনে খাদ্যের মান বজায় থাকে বলে জানান তিনি।
সংগঠনের সভাপতি বলেন, এই মেলার মাধ্যমে দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তাদের মধ্যে ব্যবসায়িক যোগাযোগ ও বিনিয়োগের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় শিল্পের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং রপ্তানি সম্প্রসারণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
সংবাদ সম্মেলনে বিপিজিএমইএর সাবেক সভাপতি মো. ইউসুফ আশরাফ, ফেরদৌস ওয়াহেদ, শাহেদুল ইসলাম হেলাল, সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি গিয়াসউদ্দিন আহমেদ, সিনিয়র সহ-সভাপতি কে এম ইকবাল হোসেন, সহ-সভাপতি কাজী আনোয়ারুল হক, পরিচালক মো. ইয়াকুব ও এ টি এম সাঈদুর রহমান বুলবুলসহ সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।





