শুক্রবার, ৬ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে ডাকসু থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা সর্বমিত্র চাকমার

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শারীরিক শিক্ষাকেন্দ্রে কয়েকজন বহিরাগতকে কান ধরে ওঠবস করানোর ঘটনায় প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ করেছেন ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা। একই সঙ্গে তিনি ডাকসু থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্তের কথাও জানিয়েছেন।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন বহিরাগতকে শাস্তিস্বরূপ কান ধরে ওঠবস করাচ্ছেন সর্বমিত্র চাকমা। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনা ও প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

এরপর দুপুরে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া পৃথক দুটি পোস্টে ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে নিঃশর্ত ক্ষমা চান তিনি এবং ডাকসু থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত জানান।

ক্ষমা চেয়ে দেওয়া পোস্টে সর্বমিত্র লেখেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠ শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত হলেও দীর্ঘদিন ধরে বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশ একটি গুরুতর নিরাপত্তা সমস্যায় রূপ নিয়েছে। তার দাবি, বহিরাগতদের কারণে নারী শিক্ষার্থীরা নিয়মিত হয়রানির শিকার হচ্ছেন, পাশাপাশি মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও সাইকেল চুরির মতো ঘটনাও ঘটছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, এসব বিষয়ে বারবার প্রশাসনকে জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। কেন্দ্রীয় মাঠে এখনো সিসি ক্যামেরা স্থাপন হয়নি, নিরাপত্তা জোরদার করা হয়নি এবং বহিরাগত প্রবেশ ঠেকাতেও দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই। প্রশাসনের এই দীর্ঘদিনের নিষ্ক্রিয়তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সর্বমিত্র জানান, ঢাকা মেডিকেল কলেজ সংলগ্ন দেয়াল টপকে নিয়মিতভাবে বহিরাগতরা মাঠে প্রবেশ করে। নিষেধ করতে গেলে অনেক সময় তারা উল্টো স্টাফদের লক্ষ্য করে ঢিল ছুড়ে পালিয়ে যায়, যা বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকির ইঙ্গিত বহন করে।

তিনি বলেন, এই বাস্তবতায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করতে গিয়ে তিনি ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বহিরাগতদের কান ধরে ওঠবস করানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য ছিল না বলে স্বীকার করে তিনি নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

পদত্যাগের সিদ্ধান্ত ব্যাখ্যা করে দেওয়া আরেক পোস্টে সর্বমিত্র চাকমা লেখেন, শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা নিয়ে ডাকসুতে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন তিনি। ক্যাম্পাস নিরাপত্তা জোরদার করতে রেজিস্টার্ড রিকশা চালু, যানবাহন নিয়ন্ত্রণসহ একাধিক প্রস্তাব প্রশাসনে দিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন।

কেন্দ্রীয় মাঠে নারী শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা করতে না পারা, হয়রানির অভিযোগ এবং বারবার চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে তিনি আইনের সীমা অতিক্রম করেছেন, যা তার নিজের কাছেও গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি আরও লেখেন, “আমার উদ্দেশ্য ছিল শুধুই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কিন্তু এই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি। তাই আর দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা আমার নেই।”

সবশেষে তিনি স্পষ্ট করে জানান, কোনো প্ররোচনা বা অভিমান থেকে নয়, সম্পূর্ণ নিজের বিবেচনায় তিনি ডাকসু থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

শেয়ার করুন