বৃহস্পতিবার, ৫ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও রোজার আগে বাড়ছে ছোলা ও চিনির দাম

পবিত্র রমজান মাস ঘনিয়ে আসতেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে আবারও অস্থিরতা দেখা দিচ্ছে। সরবরাহে ঘাটতির তথ্য না থাকলেও ছোলা ও চিনির দাম হঠাৎ করেই বেড়েছে। পাশাপাশি চাল, ডাল, তেল ও শীতকালীন সবজির বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতিকেজি ছোলার দাম ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে বাজারে ছোলা বিক্রি হচ্ছে ১০৫ থেকে ১১০ টাকা কেজি দরে, যেখানে এক সপ্তাহ আগেও একই পণ্য পাওয়া গেছে ৯৫ থেকে ১০০ টাকায়। অন্যদিকে, চিনির দাম দুই সপ্তাহ আগেই ১০০ টাকা ছাড়ালেও গত সপ্তাহে তা আরও বেড়ে সর্বোচ্চ ১১০ টাকা কেজিতে পৌঁছেছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে ছোলার চাহিদা প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার থেকে ২ লাখ টন। অথচ চলতি বছরে চাহিদার তুলনায় প্রায় ১ লাখ টন বেশি ছোলা আমদানি হয়েছে। একইভাবে চিনির সরবরাহেও কোনো ঘাটতি নেই। রোজায় সাধারণত তিন লাখ টন চিনির প্রয়োজন হলেও গত তিন মাসে আমদানি হয়েছে প্রায় পাঁচ লাখ টন, যা গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রোজার আগাম চাহিদাকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ীরা কৃত্রিমভাবে দাম বাড়াচ্ছেন।

ছোলার পাশাপাশি অন্যান্য ডালের দামেও চাপ দেখা গেছে। অ্যাংকর ডালের কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে দাম দাঁড়িয়েছে ৬০ থেকে ৬৫ টাকায়। ছোট দানার মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকা কেজিতে, যদিও মোটা দানার মসুর এখনও ১০০ টাকার আশপাশেই রয়েছে।

একমাস ধরে বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে সয়াবিন তেলও। বর্তমানে পাঁচ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ৯৫০ টাকা, যা আগে ছিল ৯২০ টাকা। খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১৯৫ টাকায়।

চালের বাজারেও স্বস্তির খবর নেই। আমন মৌসুমের নতুন চাল আসতে শুরু করলেও পুরোনো চালের দাম গত দুই সপ্তাহে কেজিতে ৪ থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। নতুন মাঝারি চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা কেজিতে, আর একই মানের পুরোনো চালের দাম ৬০ থেকে ৬৫ টাকা। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মিনিকেট চালের দাম মানভেদে ৭২ থেকে ৮৬ টাকা পর্যন্ত উঠেছে।

সবজির বাজারেও ঊর্ধ্বগতি স্পষ্ট। শীত মৌসুম শেষের পথে থাকায় সরবরাহ কমার অজুহাতে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে। বর্তমানে পেঁপে বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা কেজিতে, শালগম ৬০ টাকা, গোল বেগুন ৮০ টাকা, শসা ও গাজর ৮০ টাকা এবং কাঁচা মরিচ ১৬০ টাকা কেজি দরে। ফুলকপি ও বাঁধাকপি প্রতিপিস ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মুগদা বাজারের সবজি বিক্রেতা জুয়েল বলেন, শীতের শেষ দিকে সবজির উৎপাদন ও সরবরাহ কমে যায়। পাইকারি বাজারেই এখন আগের তুলনায় বেশি দামে সবজি কিনতে হচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারে।

ভোক্তাদের অভিযোগ, সরবরাহ স্বাভাবিক থাকা সত্ত্বেও রোজাকে সামনে রেখে একের পর এক পণ্যের দাম বাড়ায় বাজারে চাপ বাড়ছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য বাড়তি দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শেয়ার করুন