শুক্রবার, ৬ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

খাবারে বিষাক্ত কেমিক্যাল, সালাম ডেইরি মালিকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

সালাম ডেইরি ফার্ম অ্যান্ড ফুড প্রোডাক্টসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আজাদ মোঃ সাদেকুল ইসলামের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত। খাবারে বিষাক্ত কেমিক্যাল এবং রং ব্যবহার করায় তার বিরুদ্ধে ওই গ্রেফতারি পরোয়ানা বলে জানা গেছে।

মামলাটি দায়ের করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মোহাং কামরুল হাসান। একাধিক দফায় সতর্ক করার পরও সংশোধন না হলে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।

ওই মামলার প্রেক্ষিতে ১৯ জানুয়ারি গ্রেফতারি পরোয়ানা দিয়েছেন ঢাকার বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের বিচারক স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (যুগ্ন জেলা ও দায়রা জজ) নুসরাত সাহারা বীথি। ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানার পাশাপাশি জিএম নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে সমন জারি করা হয়েছে।

মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, রাজধানীর সবুজবাগে অবস্থিত সালাম ডেইরি ফার্ম অ্যান্ড ফুড প্রোডাক্টস পরিদর্শনকালে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে নাম ঠিকানা বিহীন প্ল্যাস্টিকের কৌটায় বিষাক্ত কেমিক্যাল এবং রং দিয়ে বিভিন্ন প্রকার খাবার উৎপাদন ও সংরক্ষণের প্রমাণ পাওয়া যায়। মানদণ্ডের- ব্যত্যয় ও দায়িত্বহীনতা অবহেলা করে স্বাস্থ্যহানি ও ক্ষতিসাধন করে ব্যবসা করে আসছেন। যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। প্রতিষ্ঠানের মালিক কর্তৃক অপরাধ সম্পর্কে তাৎক্ষণিক ভিডিও স্বীকারোক্তি নেওয়া হয়।

মামলায় আরও বলা হয়েছে, ইতিপূর্বে নাম ঠিকানা বিহীন কেমিক্যাল ও বিষাক্ত রং ব্যববহার না করার জন্য একাধিক দফায় মৌখিকভাবে বলা হলেও তারা সংশোধন হননি।

শুধু স্যানিটারি ইন্সপেক্টর নন, ২০২১ সালের ১৮ মে সালাম ডেইরি ফার্ম অ্যান্ড ফুড প্রোডাক্টস পরিদর্শন করেন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের (বিএফএসএ) মনিটরিং অফিসার আসলাম উদ্দীন। তিনিও তখন নোংরা স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশে খাবার তৈরি, মিষ্টিতে মাছি এবং অস্বাস্থ্যকর প্রক্রিয়ায় খাবার সংরক্ষণ দেখতে পান। বিভিন্ন অনিয়মের কারণে সংশোধনের জন্য ১৫ দিনের সময় দেওয়া হয়েছিল।

কিন্তু কোনোভাবেই সংশোধনের পথ ধরেনি সালাম ডেইরি ফার্ম অ্যান্ড ফুড প্রোডাক্টস। এ বিষয়ে স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মোহাং কামরুল হাসান বলেছেন, আমি ইতিপূর্বে ৩ বার তাদেরকে সতর্ক করেছি। একবার মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ৬ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। তারপরও তারা সংশোধন হননি। বিষাক্ত কেমিক্যাল ঘি এবং মিষ্টিতে ব্যবহার করার তথ্য পাওয়া গেছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নাম ঠিকানা বিহীন হওয়ায় রং এর নাম নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। এগুলো পাথরের মতো ভারী, খুবই বিপজ্জনক মনে করা হচ্ছে। তারা একেক সময় একেক কথা বলছে।

সালাম ডেইরি ফার্ম অ্যান্ড ফুড প্রোডাক্টসের জেনারেল ম্যানেজার নজরুল ইসলাম বলেন, গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির বিষয়ে আমাদের জানা নেই। আমাদের এখান থেকে নমুনা নিয়ে গেছে, পরীক্ষা করে জানানোর কথা। এরপর আর কিছু জানা নেই।

এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, রংগুলো ফুড গ্রেড। তবে রং এবং কেমিক্যালের নাম তাৎক্ষণিক বলতে পারেননি। পরে ফোন দিয়ে জানানোর কথা বললেও আর ফোন দেননি।

নিজস্ব খামারের খাঁটি দুধের তৈরি দই, মিষ্টি ও ছানা বিক্রি প্রচারণা চালিয়ে কিছুটা জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে মেসার্স সালাম ডেইরি ফার্ম অ্যান্ড ফুড প্রোডাক্টস। সবুজবাগ, শান্তিনগর, ডেমরা ও রামপুরাসহ ঢাকার বিভিন্ন স্থানে শাখা রয়েছে।

শেয়ার করুন