শীতের সকালের কুয়াশা, গ্রামীণ আবহ আর বাঙালির চিরায়ত ঐতিহ্যের উষ্ণতায় রাজধানীর শিক্ষাঙ্গনে এক অনন্য সাংস্কৃতিক মিলনমেলায় পরিণত হলো প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) গুলশান–২ এলাকায় অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দিনব্যাপী আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হলো ঐতিহ্যবাহী ‘পিঠা উৎসব’।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে আয়োজিত এই উৎসব সকাল ১১টা থেকেই প্রাণচাঞ্চল্যে ভরে ওঠে। শীতকালীন বাঙালি সংস্কৃতির অন্যতম অনুষঙ্গ পিঠাকে কেন্দ্র করে এ আয়োজন শুধু খাদ্য উৎসবেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং এটি হয়ে ওঠে সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও পারস্পরিক সৌহার্দ্যের এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি।
ঐতিহ্য রক্ষায় শিক্ষার্থীদের উদ্যোগকে সাধুবাদ
উৎসবে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ আব্দুল মান্নান চৌধুরী। তিনি বলেন,
“পিঠা উৎসব কেবল খাবারের আয়োজন নয়; এটি আমাদের শিকড়, ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের বহিঃপ্রকাশ। শিক্ষার্থীদের এমন সৃজনশীল উদ্যোগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বাঙালি সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের প্রিন্সিপাল এডভাইজার অধ্যাপক ড. মোঃ আনোয়ারুল কবির। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন অনুষদের ডিন, রেজিস্ট্রার, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক-শিক্ষিকা, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী।
পিঠার সমারোহে গ্রামবাংলার ছোঁয়া
উৎসব প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতায় সাজানো হয় একাধিক পিঠা স্টল। ভাপা পিঠা, পাটিসাপটা, চিতই, দুধচিতই, নকশি পিঠা, পুলি, মালপোয়া, তেল পিঠাসহ নানা রকম ঐতিহ্যবাহী বাঙালি পিঠায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো ক্যাম্পাস। স্টলগুলোতে ছিল গ্রামীণ সাজসজ্জা, দেশীয় আলপনা ও লোকজ উপকরণ, যা দর্শনার্থীদের ফিরিয়ে নিয়ে যায় শৈশবের গ্রামবাংলায়।
শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে পিঠা খেয়ে গল্প-আড্ডায় মেতে ওঠেন। শিক্ষার্থীরা জানান, পড়াশোনার একঘেয়েমি ও চাপের মাঝে এমন আয়োজন তাদের মানসিক প্রশান্তি এনে দিয়েছে এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সম্পর্ককে আরও কাছাকাছি এনেছে।
শিক্ষাঙ্গনে সংস্কৃতির সহাবস্থান
উৎসবে অংশগ্রহণকারী একাধিক শিক্ষক বলেন, আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক চর্চা শিক্ষার্থীদের মানবিক, মূল্যবোধসম্পন্ন ও সামাজিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়ক। পিঠা উৎসব তারই এক উজ্জ্বল উদাহরণ।
শীতের শেষপ্রান্তে এসে প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির এই আয়োজন পরিণত হয় এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায়—যেখানে প্রজন্মের সঙ্গে প্রজন্ম, শিক্ষা ও সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও আধুনিকতার এক সুন্দর সহাবস্থান স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
এই পিঠা উৎসব শুধু একটি দিনের আয়োজন নয়; বরং এটি ছিল বাঙালি পরিচয়কে নতুন প্রজন্মের হৃদয়ে গভীরভাবে গেঁথে দেওয়ার এক আন্তরিক প্রয়াস—যা নিঃসন্দেহে শিক্ষাঙ্গনে সংস্কৃতিচর্চার এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।









