নৌপরিবহন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, রাষ্ট্রপতির হাতে কার্যকর ক্ষমতা থাকলে দেশে কখনোই প্রধানমন্ত্রীর একক কর্তৃত্ব বা স্বৈরাচার তৈরি হতো না।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের মির্জা রুহুল আমিন মিলনায়তনে আসন্ন গণভোট ও সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে নাগরিক সচেতনতা ও গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
উপদেষ্টা সাখাওয়াত বলেন, বর্তমানে রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ক্ষমতা কার্যত সীমিত। হাজারবার অনুরোধ করলেও তিনি অনেক ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। কারণ, রাষ্ট্রপতির হাতে প্রকৃত কোনো নির্বাহী ক্ষমতা নেই। রাষ্ট্রপতিকে ক্ষমতাবান করা হলে প্রধানমন্ত্রী এককভাবে সব ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে পারতেন না।
তিনি আরও বলেন, “ক্ষমতা কোনো এক ব্যক্তির হাতে নয়—তা থাকবে কেবিনেটের মধ্যে, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ভাগাভাগি হবে। এ ব্যবস্থাই গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে।”
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচিত সরকারের মতো করে দেশ পরিচালনা করা অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়। বর্তমানে সংসদ সদস্য, উপজেলা চেয়ারম্যানসহ নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা না থাকায় অনেক কাজ সরাসরি করতে হচ্ছে। একটি কার্যকর রাষ্ট্র পরিচালনার কাঠামো গড়তে নির্বাচন অপরিহার্য।
তিনি বলেন, “আমরা একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চাই। এই নির্বাচনের জন্য বহু মানুষ জীবন দিয়েছেন। অতীতের মতো প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন আর হতে দেওয়া হবে না।”
শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে তিনি বলেন, দেশ একসময় স্বৈরাচারকেও ছাড়িয়ে ফ্যাসিবাদী শাসনের মধ্যে পড়েছিল। সংসদ, নির্বাহী বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে একক কর্তৃত্বের অধীনে আনা হয়েছিল। ভিন্নমত দমনে গুম, খুন ও তথাকথিত আয়নাঘরের সংস্কৃতি চালু হয়েছিল।
তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্মের আত্মত্যাগ ও রক্তের বিনিময়েই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য ছিল এই দমনমূলক অবস্থা থেকে দেশকে মুক্ত করা।
গণভোট প্রসঙ্গে উপদেষ্টা সাখাওয়াত বলেন, যারা দেশের পরিবর্তন চান এবং আগের মতো গুম-খুনের রাজনীতি আর দেখতে চান না, তারা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেবেন। তিনি জানান, এ ধরনের সুযোগ বারবার আসে না। একই সঙ্গে গণভোট নিয়ে অপপ্রচারের বিরুদ্ধেও সবাইকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।
মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব দেলোয়ারা বেগম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক নাজমুল হক সুমনসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা।





