নির্বাচন কমিশনের নতুন উদ্যোগ (পোস্টাল ব্যালট) নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানান অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
তিনি বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় আমাদের বিরুদ্ধে লেখালেখি করে ১২টা বাজিয়ে দিতো। এই পরিস্থিতিতে আপনারা (সাংবাদিকরা) পাশে আছেন বলেই মানুষ সঠিক তথ্য পাচ্ছে। সাংবাদিকরা না থাকলে আমরা এতদূর আসতে পারতাম না।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়ামে রাজনৈতিক দলগুলোকে পোস্টাল ভোটিং সিস্টেম নিয়ে বিফ্রিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি। ব্রিফিংয়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, নির্বাচন কমিশনার তাহমিদা আহমদ, আনোয়ারুল ইসলাম সরকার ও আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ এবং ইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সিইসি বলেন, বিশ্বের ১২২ দেশে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা সফল হলে বিশ্ব ইতিহাসে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল হয়ে থাকবে। এর আগে দেশে এ ধরনের সাহসী ও ঝুঁকিপূর্ণ উদ্যোগ কেউ নেয়নি। অনেক উন্নত দেশও যা পারেনি, বাংলাদেশ তা করে দেখাচ্ছে।
তিনি বলেন, আমরা যখন এই উদ্যোগ নেই, তখন জানতাম এর মধ্যে বহু ঝামেলা ও চ্যালেঞ্জ আসবে। আমরা একটা অজানা এরিয়ায় ঢুকে পড়েছিলাম। কিন্তু আমাদের শপথ ছিল এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করার। ১২২ দেশের ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতি, আইন এবং পোস্টাল সিস্টেমকে এক সুতোয় গাঁথা ছিল বিশাল চ্যালেঞ্জ। আমাদের টিম নিরলস সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে যাচ্ছে।
অপপ্রচার প্রসঙ্গে এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই না বুঝে সমালোচনা করেন। আপনারা (সাংবাদিকরা) আমাদের সঙ্গে আছেন বলেই মানুষ সঠিক তথ্য পাচ্ছে। কোনো নতুন কাজে ভুল-ত্রুটি বা ভুল বোঝাবুঝি হতে পারে, কিন্তু এখানে অন্য কোনো মোটিভ কাজ করেনি। সাংবাদিকরা যদি মানুষের কনফিউশনগুলো পরিষ্কার করে দেন, তবে এই প্রক্রিয়া আরও বেগবান হবে।
সিইসি আরও বলেন, বিদেশি কূটনীতিকরা যখন আমার সঙ্গে দেখা করতে আসেন, তারা বলেন যদি বাংলাদেশ এই পোস্টাল ব্যালট সফল করতে পারে, তবে তা বিশ্ব ইতিহাসে স্থান পাবে। আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোও এভাবে সফল হতে পারেনি। প্রথম বছর হিসেবে আমরা এখন পর্যন্ত যা করেছি, তা অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক ভালো অবস্থানে আছে।
শুধু প্রবাসী নয়, যারা কর্মস্থলের কারণে নিজ এলাকায় থাকতে পারেন না বা যারা কারাগারে আছেন- তাদের জন্যও ভোটাধিকার প্রয়োগের ব্যবস্থা করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর আগে কেউ এই ঝুঁকি নেওয়ার সাহস দেখায়নি। আমরা অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে এই কাজ শুরু করেছি।





