শুক্রবার, ৬ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ঢাকার বাসে ই-টিকিট বাধ্যতামূলক, এক সপ্তাহের মধ্যেই কার্যকর

রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের রুটে চলাচলকারী বাসে এখন থেকে ই-টিকিট ছাড়া যাত্রা করা যাবে না। নতুন এই ব্যবস্থায় বাস স্টপেজে থাকা কিউআর কোড স্ক্যান করে যাত্রীরা নিজেরাই অ্যাপের মাধ্যমে টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন। স্মার্টফোন ব্যবহার না করা যাত্রীদের জন্য থাকবে আলাদা ব্যবস্থা—তাদের সেবা দিতে মাঠে কাজ করবেন সাড়ে তিন হাজারের বেশি টিকিটমাস্টার।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ব্যবস্থার উদ্বোধন করা হয়। আয়োজকেরা জানান, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই ই-টিকিটিং পদ্ধতি পুরোপুরি কার্যকর হবে।

এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি), ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন, ঢাকা জেলা সড়ক পরিবহন যানবাহন শ্রমিক ইউনিয়নসহ একাধিক শ্রমিক সংগঠন একসঙ্গে কাজ করছে। কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে ‘আরবানমুভ টেক’ নামের একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম জানান, বিভিন্ন পরিবহন কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে আরবানমুভ টেক ই-টিকিটিং ব্যবস্থাপনার পূর্ণ দায়িত্ব নিয়েছে। এই কার্যক্রম পরিচালনা ও তদারকিতে মালিক সমিতি, শ্রমিক ফেডারেশন এবং পুলিশ প্রশাসন সমন্বিতভাবে কাজ করবে।

নতুন ব্যবস্থায় যাত্রী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের জন্য কয়েকটি বাধ্যতামূলক নির্দেশনাও তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে—সব বাসকে নির্ধারিত স্টপেজে যাত্রী ওঠানামা করাতে হবে, সব যাত্রীকে ই-টিকিট কেটে ভ্রমণ করতে হবে, সরকার নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া যাবে না এবং শিক্ষার্থীদের জন্য আগের মতোই অর্ধেক ভাড়া প্রযোজ্য থাকবে।

সাইফুল আলম বলেন, এই পদ্ধতি চালু হলে রাস্তায় যানজট কমবে, অসম প্রতিযোগিতা বন্ধ হবে, দুর্ঘটনা হ্রাস পাবে এবং যাত্রীদের নিরাপদ ও আরামদায়ক চলাচল নিশ্চিত হবে। একই সঙ্গে চাঁদাবাজির মতো অনিয়মও বন্ধ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, গত প্রায় ১৬ বছর ধরে ঢাকা ও শহরতলীর বাস সার্ভিস বিশৃঙ্খল অবস্থায় চলছিল। নির্দিষ্ট স্টপেজের অভাব, বৈধ রুট পারমিটের সংকট, চালকদের লাইসেন্স জটিলতা এবং কন্ট্রাক্ট পদ্ধতিতে গাড়ি পরিচালনার কারণে পরিবহন খাতে নানামুখী সমস্যা তৈরি হয়েছে। এর ফলে দুর্ঘটনা, যানজট ও যাত্রী ভোগান্তি বেড়েছে।

এই অবস্থা থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে পরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরানো, সেবার মান উন্নয়ন এবং দুর্ঘটনা কমাতে যৌথ উদ্যোগে ই-টিকিটিং ও কাউন্টারভিত্তিক বাস পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

আরবানমুভ টেকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জুনায়েদ আবদুল্লাহ জানান, ঢাকার ৮০০টির বেশি বাস স্টপেজে কিউআর কোড বসানো হবে। যাত্রীরা কোড স্ক্যান করে অ্যাপ ডাউনলোড করে সহজেই টিকিট কিনতে পারবেন। পাশাপাশি যারা স্মার্টফোন ব্যবহার করেন না, তাদের জন্য টিকিটমাস্টারের মাধ্যমে টিকিট সংগ্রহের সুযোগ থাকবে।

সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন) সরওয়ার হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) আনিসুর রহমান এবং ঢাকা জেলা সড়ক পরিবহন যানবাহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেমসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন