শুক্রবার, ২৭শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সুতা আমদানিতে শুল্কারোপের সিদ্ধান্ত ‘আত্মঘাতী’: অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ এর

সুতা আমদানিতে শুল্কারোপের সিদ্ধান্তকে পোশাক শিল্পের জন্য চরম ‘বিপর্যয়কর’ ও ‘আত্মঘাতী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে দেশের পোশাকখাতের প্রধান দুটি সংগঠন, বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এবং বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিকেএমইএ)। আজ সোমবার রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে আয়োজিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে সংগঠন দুটি এই একতরফা সিদ্ধান্ত বাতিলের জোর দাবি জানায়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএ এর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সেলিম রহমান, বিকেএমইএ এর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম ও নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান, বিজিএমইএ এর সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান, সহ-সভাপতি মোঃ রেজোয়ান সেলিম, সহ-সভাপতি (অর্থ)মিজানুর রহমান, সহ-সভাপতি মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী, পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুর রহিম, পরিচালক ফয়সাল সামাদ, পরিচালক মোহাম্মদ আবদুস সালাম, পরিচালক সুমাইয়া ইসলাম, পরিচালক কাজী মিজানুর রহমান, পরিচালক মোহাম্মদ সোহেল, সাবেক সহ-সভাপতি শহিদুল ইসলাম এবং বিজিএমইএ এর জনসংযোগ ও প্রচার কমিটির চেয়ারম্যান, মাসুদ কবির ।

সংবাদ সম্মেলনে বিজিএমইএ এর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সেলিম রহমান লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। তিনি বলেন, “বিশ্ববাজারের মন্দা এবং অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সংকটের এই ক্রান্তিকালে সুতা আমদানিতে শুল্ক আরোপ করার অর্থ হলো দেশের প্রধান রপ্তানি খাতকে জেনেশুনে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া।”

বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘পোশাক খাত এখন আইসিইউ’তে আছে। পাটের পর এখন পোশাকশিল্প ধ্বংস হবে।’

যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বলা হয় যে, আন্তর্জাতিক নীতিমালা অনুযায়ী আমদানিতে শুল্কারোপের আগে স্থানীয় শিল্পে ক্ষতির প্রমাণ দিতে হয়, যা এক্ষেত্রে মানা হয়নি এবং এটি সরাসরি বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সেফগার্ড চুক্তির লঙ্ঘন। পোশাক রপ্তানিকারকরা জানান, বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় দেশীয় স্পিনিং মিলগুলো প্রতি কেজি সুতায় প্রায় ৪০ সেন্ট বা ৪৬ টাকা বেশি দাম দাবি করছে, যা রপ্তানি সক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উল্লেখ করা হয়, নিট পোশাক খাত থেকে বছরে ২৭ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয় আসে, যা এখন এই সিদ্ধান্তের কারণে ঝুঁকির মুখে। দেশীয় মিলগুলো উচ্চমূল্যের বিশেষায়িত সুতা সময়মতো সরবরাহ করতে না পারায় আমদানির পথ রুদ্ধ হলে উৎপাদন শিডিউল তছনছ হয়ে যাবে। পোশাক খাতের নেতারা স্পষ্ট জানান, তারা দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়ার বিরোধী নন, তবে সেই সুরক্ষা আমদানিতে বাধা দিয়ে নয় বরং সরাসরি নগদ সহায়তা, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি এবং স্বল্প সুদে ঋণের মাধ্যমে দেওয়া উচিত।

বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ নেতারা দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং কোটি মানুষের কর্মসংস্থান রক্ষায় সুতা আমদানিতেতে শুল্কারোপের অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত অবিলম্বের প্রত্যাহার করার জন্য সরকারকে জোর অনুরোধ জানিয়েছে।

মেজর মোঃ সাইফুল ইসলাম, পিএসসি, সিএসসিএম (অব.)
ভারপ্রাপ্ত সচিব, বিজিএমইএ

শেয়ার করুন