শুক্রবার, ৬ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

৮০০ বিক্ষোভকারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর আপাতত স্থগিত করল ইরান

সরকারবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার ৮০০ বিক্ষোভকারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর আপাতত স্থগিত করেছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে ক্যারোলিন লিভিট জানান, ইরান কর্তৃপক্ষ ওই ৮০০ জনের ফাঁসি কার্যকরের সিদ্ধান্ত স্থগিত রেখেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবারই তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার কথা ছিল।
তিনি আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের কূটনৈতিক চাপের কারণেই ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকার এই পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে।

গত প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে ইরানজুড়ে ব্যাপক সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলছে। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার পর গত ৪৭ বছরে এত বড় পরিসরের আন্দোলনের মুখে পড়েনি দেশটির বর্তমান সরকার।
বিক্ষোভের পেছনে মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে ইরানের দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকট। টানা অবমূল্যায়নের ফলে ইরানি রিয়েল বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম দুর্বল মুদ্রায় পরিণত হয়েছে। বর্তমানে এক মার্কিন ডলারের বিপরীতে প্রায় ৯ লাখ ৯৪ হাজার ইরানি রিয়েল লেনদেন হচ্ছে।

জাতীয় মুদ্রার এই ভয়াবহ দুরবস্থার কারণে দেশটিতে দীর্ঘদিন ধরেই উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিরাজ করছে। খাদ্য, বাসস্থান, চিকিৎসা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ায় জনজীবনে চরম ভোগান্তি নেমে এসেছে।

এরই প্রেক্ষাপটে গত ২৮ ডিসেম্বর রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন বাজারের পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে ধর্মঘট শুরু করেন। সেখান থেকেই ধীরে ধীরে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে।

মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ইরানের ৩১টি প্রদেশের প্রায় সব শহর ও গ্রামে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা আরও তীব্র আকার ধারণ করে। বর্তমানে আন্দোলনের কারণে দেশটির স্বাভাবিক কার্যক্রম কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
বিক্ষোভ দমনে সরকার ইতোমধ্যে ইন্টারনেট ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধসহ কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি সেনাবাহিনীও মোতায়েন করা হয়েছে। বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত ১২ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং হাজার হাজার বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে।

বিক্ষোভ শুরুর পর থেকেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার ইরানে সামরিক অভিযানের হুমকি দিয়েছিলেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষকদের ধারণা, চলমান গণআন্দোলনের কারণে আপাতত ইরানে সরাসরি মার্কিন হামলার সম্ভাবনা কম।
সূত্র: এএফপি

শেয়ার করুন