শুক্রবার, ৬ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

কুয়ালালামপুরে অভিবাসন অভিযানে বাংলাদেশিসহ ১৫০ বিদেশি আটক

মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের বিশেষ অভিযানে বাংলাদেশিসহ অন্তত ১৫০ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে। অভিযানের সময় গ্রেপ্তার এড়াতে প্রবাসীদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

‘অপারেশন কুটিপ’ নামের এই অভিযানে অনেকেই আটক এড়াতে চরম পদক্ষেপ নেন। কেউ অ্যাপার্টমেন্টের ওপর তলা থেকে দা ছুড়ে মারেন, কেউ ছাদে উঠে পড়েন, আবার কাউকে পানির ট্যাঙ্কের ভেতর আত্মগোপনে থাকতে দেখা যায়।

অভিবাসন বিভাগ জানিয়েছে, সেলায়াং এলাকার একটি আবাসিক অ্যাপার্টমেন্ট ব্লক এবং জালান ক্লাং লামার একটি অবৈধ বসতিতে একযোগে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।

মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের উপ-মহাপরিচালক (অপারেশন) লোকমান এফেন্দি রামলি জানান, প্রায় দুই সপ্তাহের গোয়েন্দা নজরদারির পর সেলায়াং এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে মোট ৩২৬ জনের কাগজপত্র যাচাই করা হলে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ৭৯ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়।

সেলায়াং থেকে আটক হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, নেপাল, ভারত, পাকিস্তান ও মিয়ানমারের নাগরিক রয়েছেন। আটক ব্যক্তিদের বয়স ১৭ থেকে ৫৫ বছরের মধ্যে। তারা মূলত নিরাপত্তাকর্মী, খাবারের দোকানের সহকারী, লন্ড্রি কর্মী, মুদি দোকানের কর্মচারী এবং নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন।

লোকমান এফেন্দি আরও জানান, অভিযানে দেখা গেছে প্রবাসীরা অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর ও গাদাগাদি পরিবেশে বসবাস করছিলেন। সাধারণত তিন কক্ষের একটি ফ্ল্যাট প্রায় ৬০০ রিঙ্গিত ভাড়ায় নিয়ে সেখানে পাঁচ থেকে ছয়জন একসঙ্গে থাকতেন। এর ফলে দুর্গন্ধ, স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণসহ নানা সামাজিক সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এক সপ্তাহের গোয়েন্দা নজরদারির পর জালান ক্লাং লামার একটি অবৈধ বসতিতে দ্বিতীয় দফার অভিযান চালানো হয়। সেখানে থেকে আরও ৭১ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ৬৬ জন ইন্দোনেশিয়ান, তিনজন মিয়ানমারের নাগরিক এবং ভারত ও পাকিস্তানের একজন করে নাগরিক রয়েছেন।

বার্নামার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ওই বসতিতে সীমিত মৌলিক সুবিধা থাকলেও বাসিন্দারা অনানুষ্ঠানিকভাবে জায়গা ভাড়া নিয়ে বসবাস করছিলেন। এমনকি তারা প্রকৃত মালিকের পরিচয় সম্পর্কেও অবগত ছিলেন না। এলাকাটিতে কোনো বৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ ছিল না; আশপাশের উৎস থেকে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে বসতি গড়ে তোলা হয়েছিল।

লোকমান এফেন্দি স্পষ্ট করে বলেন, অভিবাসন বিভাগের অভিযান আরও জোরদার করা হবে এবং এ বিষয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি সতর্ক করে বলেন, “শুধু অবৈধ অভিবাসীদের নয়, তাদের নিয়োগদানকারী নিয়োগকর্তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

আটককৃতদের বিরুদ্ধে ১৯৫৯/৬৩ সালের অভিবাসন আইনের আওতায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাদের কারও কাছেই বৈধ পাস বা পারমিট ছিল না এবং অনেকের ভিসার মেয়াদও ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেছে।

অভিযানের সময় কুয়ালালামপুর ফেডারেল টেরিটরি অভিবাসন বিভাগের পরিচালক ওয়ান মোহাম্মদ সাউপি ওয়ান ইউসুফ উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র: দ্য সান মালয়েশিয়া

শেয়ার করুন