শুক্রবার, ৬ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

৩৫ জেলায় নিপাহ ভাইরাস, খেজুরের রস ও আধাখাওয়া ফল এড়িয়ে চলার সতর্কতা

দেশের ৩৫ জেলায় নিপাহ ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। সংক্রমণের ধরন ও বিস্তারের গতি উদ্বেগজনকভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে বলে সতর্ক করেছে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাজধানীতে আইইডিসিআরের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘নিপাহ ভাইরাসের বিস্তার ও ঝুঁকি’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। সভায় উপস্থাপিত প্রবন্ধে সংস্থাটির বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শারমিন সুলতানা জানান, ২০২৫ সালে দেশে নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত চারজনের সবাই মারা গেছেন, যা শতভাগ মৃত্যুহার নির্দেশ করে।

তিনি জানান, গত বছর নওগাঁ, ভোলা, রাজবাড়ী ও নীলফামারী জেলায় চারজন রোগী শনাক্ত হয়। এর মধ্যে নওগাঁর আট বছর বয়সী এক শিশুর সংক্রমণ ছিল দেশের প্রথম ‘অ-মৌসুমি নিপাহ কেস’, যা শীতকাল ছাড়াই আগস্ট মাসে শনাক্ত হয়। ওই শিশুর সংক্রমণের উৎস হিসেবে বাদুড়ের আধাখাওয়া ফল— যেমন কালোজাম, খেজুর ও আম— চিহ্নিত করা হয়েছে, যা নিপাহ সংক্রমণের একটি নতুন ও উদ্বেগজনক পথ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়, দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ইতোমধ্যে ৩৫ জেলায় নিপাহ ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। ফরিদপুর, রাজবাড়ী, নওগাঁ ও লালমনিরহাটে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার তুলনামূলক বেশি। বিশ্বব্যাপী নিপাহ ভাইরাসে গড় মৃত্যুহার প্রায় ৭২ শতাংশ হলেও দেশে সাম্প্রতিক কেসগুলোতে তা শতভাগ।

আইইডিসিআর জানায়, এতদিন কাঁচা খেজুরের রসকে নিপাহ সংক্রমণের প্রধান উৎস ধরা হলেও নতুন তথ্য অনুযায়ী বাদুড়ের লালা বা মূত্রে দূষিত যেকোনো আধাখাওয়া ফল সরাসরি খাওয়ার মাধ্যমেও সারা বছর সংক্রমণ ঘটতে পারে। এছাড়া মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণের হার প্রায় ২৮ শতাংশ, যা স্বাস্থ্যকর্মী ও রোগীর স্বজনদের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. তাহমিনা শিরীন। তিনি বলেন, “অ-মৌসুমি নিপাহ কেস এবং নতুন সংক্রমণ পথ আমাদের জন্য বড় সতর্ক সংকেত। নিপাহ এখন আর শুধু শীতকাল বা খেজুরের রসের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, এটি সারা বছরের একটি গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে।”

নিপাহ ভাইরাস জরিপ কার্যক্রমের সমন্বয়কারী ডা. সৈয়দ মঈনুদ্দিন সাত্তার জানান, ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলোতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সভায় আরও জানানো হয়, ২০২৪ সালেও দেশে নিপাহ ভাইরাসে পাঁচজন আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং সবাই মারা যান। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক তথ্য ও নতুন সংক্রমণ পথের ইঙ্গিত দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আরও সতর্ক ও প্রস্তুত থাকার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে।

শেয়ার করুন