শুক্রবার, ৬ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

‘নিম্নমানের’ কিটক্যাট: সরবরাহকারীকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত

নিম্নমানের কিটক্যাট চকলেট বাজারজাত করার মামলায় এক সরবরাহকারীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে আদালত।

কারাগারে পাঠানো ওই সরবরাহকারীর নাম মোজাম্মেল হোসাইন।

রোববার জামিন আবেদন নাকচে করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয় ঢাকা স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নুসরাত সাহারা বিথির আদালত।

মামলার বাদী ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের খাদ্য পরিদর্শক কামরুল হাসান সংবাদমাধ্যমে এ তথ্য দিয়েছেন।

‘সুমাইয়া এন্টারপ্রাইজের’ মালিক মোজাম্মেলকে সম্প্রতি মৌলভীবাজার থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

নেসলে বাংলাদেশের উৎপাদিত কিটক্যাট চকলেট বাজারজাত করে ‘সুমাইয়া এন্টারপ্রাইজ’।

গত ৩ নভেম্বর মামলা হওয়ার পর মোজাম্মেলকে গ্রেপ্তারে পরোয়ানা জারি করেছিল আদালত।

কামরুল হাসান বলেন, “বারবার অনুরোধ জানানোর পরও মোজাম্মেল হোসাইন কোনো ধরনের সহযোগিতা করেননি।”

পরীক্ষা চালানো কিটক্যাট চকলেটের নমুনা ফকিরাপুলের ‘আমানিয়া বেকারি’ থেকে সংগ্রহ করেছিলেন কামরুল হাসান।

পরে সিটি করপোরেশনের পরীক্ষাগারে সেটির মান যাচাই করা হয়। মান যাচাই করতে গিয়ে এ মামলায় নাম আসে মোজাম্মেলের।

কামরুল হাসানের অভিযোগ, চকলেটে ‘মিল্ক সলিড’ ছিল ৯ দশমিক ১২ শতাংশ, যা বিএসটিআই নির্ধারিত ১২ থেকে ১৪ শতাংশের চেয়ে কম।

চকলেটে মিল্ক ফ্যাট পাওয়া যায় ১ দশমিক ১৬ শতাংশ, যা থাকার কথা ছিল আড়াই থেকে সাড়ে ৩ শতাংশ।

কামরুল হাসান এর আগে বলেছিলেন, মিল্ক সলিড কম থাকার মানে হলো, খাদ্যে ভেজাল থাকতে পারে। আর মিল্ক ফ্যাট কম থাকা বোঝায়, দুধের চর্বির পরিবর্তে তেল বা ভেজিটেবল ফ্যাট ব্যবহার করা হয়েছে।

‘নিম্নমানের’ চকলেট সরবরাহের অভিযোগে গত ২৪ নভেম্বর আরেকটি মামলা করেন কামরুল হাসান। এতে নেসলে বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দিপাল আবে বিক্রমা ও পাবলিক পলিসি ম্যানেজার রিয়াসাদ জামানকে আসামি করা হয়।

এই দুজনের বিরুদ্ধেও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। তবে দুজনের কেউই এখনো গ্রেপ্তার হননি।

এ মামলায় বলা হয়, বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) মানদণ্ডে অনুমোদিত সর্বাধিক ১ শতাংশের বিপরীতে ওয়েফার বিস্কুটটিতে ২ দশমিক ৩২ শতাংশ অম্লতা (অ্যাসিডিটি) পাওয়া গেছে। আবরণে ব্যবহৃত চকলেটে অনুমোদিত ১২ থেকে ১৪ শতাংশের পরিবর্তে ৯ দশমিক ৩১ শতাংশ দুধের কঠিন পদার্থ ছিল।

একই পণ্যে দুধের ফ্যাট বা চর্বির পরিমাণ ছিল ১ দশমিক ২৩ শতাংশ, যা মানসম্মত পরিমাণ ২.৫ থেকে ৩.৫ শতাংশ সীমার বেশ নিচে বলে অভিযোগ করা হয়।

এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে নেসলে বাংলাদেশ। তারা বলছে, খাদ্যপণ্যটির গুণগত মানের পক্ষে ডিস্ট্রিবিউটররা যে তথ্য দিয়েছে, সেটি উপেক্ষা করা হচ্ছে।

নেসলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও পাবলিক পলিসি ম্যানেজারের বিরুদ্ধে মামলা করার আগে কোনো ধরনের যোগাযোগ করা হয়নি বলেও দাবি কোম্পানিটির।

শেয়ার করুন