রাজধানীর বিভিন্ন মোবাইল ফোনের দোকান ও শোরুমে কিস্তি সুবিধায় ফোন কিনতে গিয়ে বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। বিশেষ করে Tecno ব্র্যান্ডের স্মার্টফোন কিস্তিতে কিনতে গেলে বাজার মূল্যের চেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বেশি টাকা দিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সম্প্রতি রাজধানীর কয়েকটি মোবাইল ফোনের দোকান ও অফিসিয়াল শোরুম ঘুরে দেখা গেছে, কিস্তি সুবিধা দেওয়ার নামে ক্রেতাদের কাছ থেকে প্রসেসিং ফি, সার্ভিস চার্জ এবং ব্যাংকের সুদের কথা বলে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ক্রেতাদের স্পষ্টভাবে মোট কত টাকা পরিশোধ করতে হবে, সে তথ্যও আগেই জানানো হচ্ছে না।
দোকানিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ব্যাংক বা ফিন্যান্সিং প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্যবহার করে কিস্তি সুবিধা দেওয়া হয়। সাধারণত ৩ থেকে ৬ মাস মেয়াদে এই কিস্তি পরিশোধ করতে হয়। তবে কিস্তি সুবিধা নেওয়ার ফলে মোবাইলটির চূড়ান্ত দাম বাজার মূল্যের চেয়ে কয়েক হাজার টাকা বেশি হয়ে যায়।
একাধিক ক্রেতা জানান, অনেক সময় কম ডাউনপেমেন্টের প্রলোভন দেখিয়ে ফোন বিক্রি করা হয়। যেমন—৩ হাজার বা ৮ হাজার টাকা জমা দিয়ে ফোন নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। কিন্তু পরে মাসিক কিস্তি যোগ করলে দেখা যায়, ফোনটির মোট দাম বাজার মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি হয়ে গেছে।
রাজধানীর একটি শোরুমের বিক্রয়কর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “কিস্তির ক্ষেত্রে ব্যাংকের প্রসেসিং ফি এবং সুদের কারণে কিছুটা অতিরিক্ত টাকা যুক্ত হয়। তবে অনেক দোকান এ সুযোগে বাড়তি চার্জও যোগ করে।”
ভোক্তা অধিকার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কিস্তি সুবিধা থাকলেও ক্রেতাদের স্বচ্ছ তথ্য দেওয়া জরুরি। অনেক ক্ষেত্রে ক্রেতারা কিস্তির কাগজপত্র না বুঝেই চুক্তি করেন, ফলে পরে গিয়ে বেশি টাকা দিতে বাধ্য হন।
এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়ে বলেন, কিস্তিতে মোবাইল ফোন কেনার আগে অবশ্যই মোট কত টাকা পরিশোধ করতে হবে, কিস্তির সংখ্যা কত এবং সুদের হার কত—এসব বিষয় ভালোভাবে জেনে নেওয়া উচিত। পাশাপাশি শুধুমাত্র অনুমোদিত শোরুম থেকে কেনাকাটা করা এবং প্রয়োজন হলে লিখিত হিসাব নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্লেষকদের মতে, কিস্তির নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের বিষয়টি তদারকি করা হলে ক্রেতারা প্রতারণার ঝুঁকি থেকে কিছুটা সুরক্ষা পাবেন।





