তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিতে মূল্যবোধ বোঝার ঘাটতি রয়ে গেছে। সংসদীয় রাজনীতি চর্চা করতে গিয়েও যখন কোনো কোনো মহল তার মাত্রা অতিক্রম করে নিয়মতান্ত্রিক তর্ক-বিতর্ককে মব কালচারে পরিণত করতে চায়, তখনই জাতি সতর্ক হয়ে যায় যে, আবারও অন্য কোনো ধরনের মনোজগত ফিরে আসছে কিনা।
শনিবার (১৪ মার্চ) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ‘মশিয়ূর রহমান যাদু মিয়ার ৪৭তম মৃত্যুবার্ষিকী’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘যাদু ভাইয়ের ৪৭তম মৃত্যুবার্ষিকীতে আমি সংশ্লিষ্ট সব মহলকেই এ বিষয়ে সজাগ থাকার আহ্বান জানাই।
সতর্ক থাকার আহ্বান জানাই। ইতিহাস বিশ্বব্যাপী যেমন প্রমাণ করেছে, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটেও কিন্তু প্রমাণ করেছে, আমাদের দেশের রাজনীতি এবং উন্নয়নের একমাত্র সমাধান হচ্ছে গণতন্ত্র এবং অবাধ নির্বাচন। এর বাইরে যতবারই গতিমুখকে যারা পরিবর্তন করেছে, ততবারই জাতীয় সংকট তৈরি হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা বারবার বলেছেন, গণতন্ত্র হয়তো সর্বোত্তম সমাধান না।
কিন্তু এর চেয়েও কোনো উত্তম সমাধান আজ পর্যন্ত আবিষ্কার হয়নি। অতএব সংশ্লিষ্ট সব মহলকে আমাদেরকে গণতান্ত্রিক রাজনীতির এই সংস্কৃতি এবং মূল্যবোধকে আঁকড়ে ধরতে হবে। বাংলাদেশের ইতিহাসও কিন্তু এটা প্রমাণ হয়েছে। যে রাজনৈতিক দল, নেতৃত্ব এবং প্রক্রিয়া এই মূল্যবোধের বাইরে ঢুকে পড়েছে, তখনই গোটা জাতি জাতীয় সংকটের মধ্যে পড়েছে।
তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশের বর্তমান সরকার এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারেক রহমানের নেতৃত্বে যে নতুন যাত্রা শুরু করেছে, সেখানে আমরা যদি গণতান্ত্রিক এই মূল্যবোধকে এবং বাংলাদেশি পরিচয় আঁকড়ে ধরতে পারি এবং ধর্মীয় মূল্যবোধের সীমানাকে আমরা যদি ধর্ম ব্যবসায়ীদের হাত থেকে রক্ষা করতে পারি, তাহলে আমাদের পরাজিত করার মতো কোনো শক্তি দেখি না।’
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, “দেশনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান নির্বাচিত সরকার বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, বহুদলীয় গণতন্ত্র ও ধর্মীয় মূল্যবোধ রক্ষায় পুরোপুরি বদ্ধপরিকর। আমাদের সরকার অত্যন্ত সচেতনভাবে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদকে মূর্তমান করার কাজ করছে। আমাদের স্পষ্ট কথা, সবার আগে বাংলাদেশ। দিল্লির প্রতি যাদের মোহ রয়েছে কিংবা পিন্ডির প্রতি যাদের টান রয়েছে, আমরা ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান দিয়ে সেই মোহগ্রস্তদের ঘুম ভাঙাতে চাই।
বিশিষ্ট ছড়াকার আবু সালেহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ, গণতন্ত্র মঞ্চের অন্যতম নেতা ও ভাসানী জনশক্তি পার্টির চেয়ারম্যান শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ সৈয়দ দিদার বকত ও রিটা রহমান প্রমুখ।





