সরকারি হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসকেরা ডিউটির সময় বাইরে প্রাইভেট প্র্যাকটিস করলে তাদের লাইসেন্স স্থগিতসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালের ওষুধ যেন সাধারণ মানুষ ঠিকভাবে পায় এবং চিকিৎসকেরা কর্মস্থলে নিয়মিত উপস্থিত থাকেন—এটি নিশ্চিত করতে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এজন্য সারা দেশে গোয়েন্দা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, অনিয়ম বন্ধে সারা দেশে গোয়েন্দা নজরদারি চালানো হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, ‘রাজনীতি করার জন্য আমি এই চেয়ারে বসিনি। স্বচ্ছতা ও সততার সঙ্গে কাজ করার জন্য প্রধানমন্ত্রী আমাকে দায়িত্ব দিয়েছেন।’
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশ দিয়েছেন—কেউ রাজনীতি করতে পারেন, তবে তা যেন কাজের পারফরম্যান্সে কোনও ধরনের বিঘ্ন না ঘটায়।
স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নত করতে সরকার বড় পরিসরে জনবল নিয়োগের পরিকল্পনা করছে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, মিডওয়াইফ, ফার্মাসিস্ট, মেডিকেল টেকনোলজিস্টসহ বিভিন্ন পদে এক লাখ জনবল নিয়োগ দেয়া হবে। এর মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশই নারী হবেন।
এদিকে শরীয়তপুরে সরকারি হাসপাতালে কর্মঘণ্টায় প্রাইভেট চেম্বারে রোগী দেখার অভিযোগে এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। শরীয়তপুর ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতালের জুনিয়র কনসালটেন্ট (শিশু) ডা. রাজেশ মজুমদার গত ৪ মার্চ নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে উপস্থিত না থেকে প্রাইভেট চেম্বারে রোগী দেখছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে।
বিষয়টি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ হলে তা প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে। পরে তিনি স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে ফোন করে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন। এরপর ডা. রাজেশ মজুমদারকে কেন চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হবে না—সে বিষয়ে তিন দিনের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি তার চিকিৎসা লাইসেন্স ছয় মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে এবং বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।





