চট্টগ্রামের বিদ্যুৎকেন্দ্র গুলোর উৎপাদন অর্ধেকে

গ্রীষ্মের শুরুতেই চট্টগ্রাম মহানগরী ও আশপাশের উপজেলাগুলোতে বিদ্যুৎ সংকট ভয়াবহ আকার নিয়েছে। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন গ্রাহকরা। ফলে তীব্র গরমে জনজীবন হয়ে উঠেছে দুর্বিষহ।

নগরীর এনায়েত বাজার এলাকায় মঙ্গলবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চারবার বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। প্রতিবারই এক ঘণ্টার বেশি সময় বিদ্যুৎ ছিল না। একই দিনে ফিরিঙ্গীবাজার শিববাড়ি এলাকায় পাঁচবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, কখনো এক ঘণ্টা, কখনো দেড় ঘণ্টাও বিদ্যুৎ থাকে না।

গত এক সপ্তাহ ধরে এ সমস্যা আরও তীব্র হয়েছে। তীব্র গরমে ঘরের স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিশু ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন। শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে পরিস্থিতি আরও খারাপ—দিন-রাত মিলিয়ে ৭–৮ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। বিশেষ করে চলমান এসএসসি পরীক্ষার্থীরা পড়াশোনায় মারাত্মক সমস্যায় পড়েছে।

উৎপাদন কমার কারণ

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) কর্মকর্তারা বলছেন, জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদার তুলনায় কম সরবরাহ পাওয়ায় লোডশেডিং বাড়ছে। পাশাপাশি গ্যাস ও জ্বালানি তেলের সংকট, এবং রক্ষণাবেক্ষণ জটিলতায় উৎপাদন কমে গেছে।

চট্টগ্রাম অঞ্চলে মোট ২৪টি বিদ্যুৎকেন্দ্র থাকলেও অধিকাংশই পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না। মোট উৎপাদন সক্ষমতা ৪,৬০০ মেগাওয়াটের বেশি হলেও বাস্তবে অনেক কেন্দ্র অর্ধেকেরও কম বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে।

  • বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বর্তমান অবস্থা
  • রাউজান তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিট গ্যাস সংকটে বন্ধ
  • কাপ্তাই জলবিদ্যুৎকেন্দ্র আংশিক বন্ধ পানির অভাবে
  • তেলচালিত কেন্দ্রগুলো অর্ধেক সক্ষমতায় চলছে
  • কেবল মাতারবাড়ি ও বাঁশখালীর কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলো তুলনামূলক স্থিতিশীল উৎপাদনে রয়েছে

চাহিদা ও সরবরাহের ফারাক

চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান নিয়ে গঠিত দক্ষিণাঞ্চলে দৈনিক চাহিদা ১,৩০০–১,৪০০ মেগাওয়াট। কিন্তু জাতীয় গ্রিড থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী সরবরাহ না পাওয়ায় প্রতিদিন ৮০ থেকে ১৭০ মেগাওয়াট পর্যন্ত ঘাটতি থাকছে।

কেন উৎপাদন বেশি হলেও লোডশেডিং?

চট্টগ্রামে উৎপাদিত বিদ্যুৎ সরাসরি স্থানীয়ভাবে ব্যবহৃত হয় না। এটি জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়ে সারা দেশে বণ্টন করা হয়। ফলে স্থানীয় চাহিদা থাকা সত্ত্বেও সরবরাহ কমে যায়।

আশার কথা

কর্তৃপক্ষের মতে, গ্যাস ও ফার্নেস অয়েলের সরবরাহ স্বাভাবিক হলে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়বে এবং লোডশেডিং পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।

পিডিবি চট্টগ্রাম বিতরণ অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সারাদেশে বিদ্যুতের যে অবস্থা আমাদের চট্টগ্রামেও একই অবস্থা। চট্টগ্রামের কেন্দ্রগুলো থেকে যে বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়, তা জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবার পর আমাদের চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ দেয়। চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ না পেলে আমরা লোডশেডিং করে থাকি।”

পিডিবি চট্টগ্রামের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, চট্টগ্রামের কেন্দ্রগুলোতে তেল ও গ্যাস সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গেছে, সক্ষমতা অনুযায়ী উৎপাদনে যেতে পারছে না।

তিনি বলেন, রাউজান তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৪২০ মেগাওয়াট সক্ষমতার দুটি ইউনিট গ্যাসের অভাবে বন্ধ আছে। কাপ্তাই জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিটের মধ্যে দুই থেকে তিনটি কেন্দ্র পানির অভাবে নিয়মিত বন্ধ থাকছে।

শেয়ার করুন