শুক্রবার, ২৭শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

মূল্যস্ফীতি আবার ঊর্ধ্বমুখী, চাপে নিম্নআয়ের মানুষ

নতুন বছরের শুরুতেই আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে মূল্যস্ফীতি। জানুয়ারি মাসে সাধারণ মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশে, যা আগের মাসের তুলনায় বেশি। এতে করে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি দেশের নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়লো।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ডিসেম্বরে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ। তার আগের মাস নভেম্বরেও এ হার ছিল ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ। ধারাবাহিকভাবে তিন মাস ধরে মূল্যস্ফীতি বাড়ার এই প্রবণতা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

তবে চলতি বছরের জানুয়ারির মূল্যস্ফীতি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কিছুটা কম। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দেশে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ। এরপরও চলতি বছরের জানুয়ারিতে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে নিম্নআয়ের মানুষের ওপর।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিবিএস জানুয়ারি মাসের হালনাগাদ মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশ করে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, খাদ্য খাতে মূল্যস্ফীতি জানুয়ারিতে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ২৯ শতাংশে। চাল, ডাল, মাছ, মুরগি, ডিম, দুধ, সবজি ও মাংসসহ প্রায় সব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়াই এর প্রধান কারণ।

খাদ্যবহির্ভূত খাতেও মূল্যস্ফীতির চাপ কমেনি। জানুয়ারিতে এই খাতে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৮ দশমিক ৮১ শতাংশ। ফলে বাসাভাড়া, শিক্ষা, চিকিৎসা ও পরিবহন ব্যয়ও সাধারণ মানুষের জন্য বাড়তি বোঝা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

বিবিএসের পরিসংখ্যান বলছে, টানা চার মাস ধরে খাদ্য মূল্যস্ফীতি বাড়ছে। গত ডিসেম্বরে খাদ্য খাতে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৭ দশমিক ৭১ শতাংশ, আর এক বছর আগে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তা ছিল ১০ দশমিক ৭২ শতাংশ।

অন্যদিকে, খাদ্যবহির্ভূত খাতে গত ডিসেম্বরে মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ১৩ শতাংশ, যা গত বছরের জানুয়ারিতে ছিল ৯ দশমিক ৩২ শতাংশ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মূল্যস্ফীতির এই ধারাবাহিক ঊর্ধ্বগতি নিম্ন ও সীমিত আয়ের মানুষের জীবনযাত্রায় সবচেয়ে বেশি নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে, যা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

শেয়ার করুন