শুক্রবার, ৬ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

অতিরিক্ত কুমড়ার বীজ খেলে শরীরে যে সমস্যাগুলো দেখা দিতে পারে

কুমড়ার বীজ আকারে ছোট হলেও পুষ্টিগুণে ভরপুর। মুচমুচে স্বাদ এবং সহজপাচ্য মনে হওয়ায় অনেকেই অজান্তেই প্রয়োজনের চেয়ে বেশি খেয়ে ফেলেন। প্রোটিন, ভালো চর্বি ও খনিজ উপাদানের জন্য কুমড়ার বীজ স্বাস্থ্যকর হলেও মাত্রা ছাড়ালে শরীরে কিছু অস্বস্তিকর প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত কুমড়ার বীজ খাওয়ার ফলে নিচের সমস্যাগুলো দেখা দিতে পারে।

পেট ফাঁপা ও গ্যাসের সমস্যা
কুমড়ার বীজে উচ্চমাত্রার ফাইবার রয়েছে, যা স্বাভাবিক পরিমাণে হজমে সাহায্য করে। কিন্তু একসঙ্গে বেশি ফাইবার গ্রহণ করলে অন্ত্রে অতিরিক্ত গাঁজন শুরু হয়। এর ফলে গ্যাস জমে পেট ফাঁপা, অস্বস্তি ও চাপের অনুভূতি তৈরি হতে পারে।

কোষ্ঠকাঠিন্য অথবা পাতলা পায়খানা
এই বীজে দ্রবণীয় ও অদ্রবণীয়—দুই ধরনের ফাইবারই থাকে। অতিরিক্ত অদ্রবণীয় ফাইবার মলত্যাগের গতি খুব বাড়িয়ে দিতে পারে, যার ফলে ডায়রিয়া হতে পারে। আবার পর্যাপ্ত পানি না খেলে একই ফাইবার মলকে শক্ত করে কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণও হতে পারে।

পেটব্যথা ও বদহজম
কুমড়ার বীজের বাইরের আবরণ শক্ত এবং এতে চর্বির পরিমাণও তুলনামূলক বেশি। বেশি পরিমাণে খেলে হজমে সময় লাগে, যার ফলে পেটে ক্র্যাম্প, ভারী ভাব বা বদহজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। সংবেদনশীল পাচনতন্ত্রের ক্ষেত্রে অ্যাসিডিটির প্রবণতাও বাড়তে পারে।

অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণের ঝুঁকি
স্বাস্থ্যকর হলেও কুমড়ার বীজ ক্যালোরিতে সমৃদ্ধ। অল্প পরিমাণেই বেশ ভালো ক্যালোরি থাকে। নিয়মিত অতিরিক্ত খাওয়ার অভ্যাস তৈরি হলে তা ধীরে ধীরে ওজন বৃদ্ধির কারণ হতে পারে।

বেশি সোডিয়াম শরীরে প্রবেশ
বাজারজাত অনেক কুমড়ার বীজে লবণের পরিমাণ বেশি থাকে। অতিরিক্ত সোডিয়াম শরীরে পানি ধরে রাখতে পারে, ফলে পেট ফাঁপা, অতিরিক্ত তৃষ্ণা এবং সাময়িকভাবে রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

পরামর্শ
বিশেষজ্ঞদের মতে, কুমড়ার বীজ প্রতিদিন অল্প পরিমাণে এবং সম্ভব হলে লবণহীন অবস্থায় খাওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ ও উপকারী।

শেয়ার করুন