শুক্রবার, ৬ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ঠাকুরগাঁয়ে আবারও শীতের দাপট

পঞ্জিকার পাতায় মাঘের অর্ধেক পেরিয়ে গিয়েছে। দিন কয়েক আগে রোদের দেখা মিলে মনে হয়েছিল, শীত বুঝি এ বারের মতো পাততাড়ি গোটাল। কিন্তু শুক্রবার সকালে ঘুম ভাঙতেই ঠাকুরগাঁও দেখল অন্য ছবি। ফের স্বমহিমায় ফিরল হাড়কাঁপানো ঠান্ডা। উত্তর দিক থেকে বয়ে আসা কনকনে হাওয়ায় জনজীবন কার্যত বিপর্যস্ত। কনকনে ঠান্ডায় ঘরে বন্দি শিশু থেকে বৃদ্ধ।

সদর উপজেলার উত্তর হরিহরপুর গ্রামের ৭৫ বছর বয়সি কৃষক ইসাহাক আলীর চোখেমুখে স্মৃতির ঝিলিক। লাঠিতে ভর দিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে প্রবীণ এই বৃদ্ধ বলছিলেন, এ তো দেখছি যৌবনের সেই দিনগুলোর ফিরে আসা। এমন হাড় হিম করা ঠান্ডার পরেই তো আগে বৃষ্টি নামত। স্থানীয়দের অভিজ্ঞতা বলছে, গত কয়েক দিনের তুলনায় আজ সকালের পারদ পতন যেন মাঘের সেই পুরনো প্রবাদকেই সত্যি প্রমাণ করছে।

সকাল সাড়ে ন’টা বেজে গেলেও সূর্যের দেখা মেলেনি। ঘন কুয়াশার দাপটে হাত দশেক দূরের জিনিসও অনুমান করা দায়। সাধারণত ছুটির দিনে পাড়ার যে মাঠগুলো শিশু-কিশোরদের কলতানে মুখর থাকে, আজ সেখানে শ্মশানের নীরবতা। লেপ-কাঁথার ওমে নিজেদের সঁপে দিয়েছে এ জনপদের শৈশব। রাস্তাঘাটে মানুষের আনাগোনা অত্যন্ত সীমিত। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে হতে সাহস করছেন না।

গত তিন সপ্তাহ আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ঠাকুরগাঁও জুড়ে কৃষিকাজে ব্যাপক চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছিল। দরজায় কড়া নাড়ছে বোরো মৌসুম। কিন্তু শুক্রবারের এই হঠাৎ তাপমাত্রা পতন কৃষকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।

কুয়াশা দীর্ঘস্থায়ী হলে আলু ও অন্যান্য রবি শস্যের ক্ষতি হতে পারে। চাষিদের দাবি, শীত দীর্ঘস্থায়ী হলে বোরো ধানের রোপণ প্রক্রিয়া অনেকটাই পিছিয়ে যাবে।

স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মাজেদুল ইসলাম জানান, আজ সকালে জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে তিনি আশাবাদী যে, এই পরিস্থিতি সাময়িক। রোদ উঠলে দ্রুত পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটবে বলে মনে করছেন তিনি।

আপাতত চাদর-মুড়ি দিয়ে আগুনের উত্তাপ আর এক কাপ গরম চা-ই এখন ঠাকুরগাঁওবাসীর প্রধান সঙ্গী।

শেয়ার করুন