শুক্রবার, ৬ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শালীর সঙ্গে সম্পর্ক, বিয়ের পর প্রতিশোধ: ফটিকছড়িতে যুবক হত্যায় মূল অভিযুক্ত গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে কিশোর রাজু মিঞা (১৯) হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে প্রেমঘটিত বিরোধ ও প্রতিশোধের চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে পুলিশ। শালীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ভেঙে গিয়ে তার অন্যত্র বিয়ে হওয়াকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ থেকেই পরিকল্পিতভাবে রাজুকে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা।

এ ঘটনায় মূল অভিযুক্ত মো. ফিরোজ আহাম্মদ (৩৪) ও তার শাশুড়ি ফাতেমা বেগমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো ছুরিও উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) ফিরোজ আহাম্মদ চট্টগ্রামের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

পুলিশ জানায়, গত ২১ জানুয়ারি রাতে ধর্মপুর গ্রামের বাসিন্দা রাজু মিঞা তার ভাঙারির দোকানে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেলে পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে ২৬ জানুয়ারি সকালে ধর্মপুর ইউনিয়নের একটি সেগুন বাগানের পাশ থেকে খনখাইয়া খালের ঢালে বালিচাপা অবস্থায় রাজুর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহতের বাবা অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ফটিকছড়ি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, ফিরোজ আহাম্মদের বাড়ি রাউজানে হলেও তিনি ঢাকায় চাকরি করতেন। তার স্ত্রী ধর্মপুরে বাবার বাড়িতে বসবাস করতেন। সেই সময় ফিরোজ তার স্ত্রীর ছোট বোনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। পরে ওই নারী প্রতিবেশী রাজু মিঞার সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান এবং সামাজিক সমঝোতার মাধ্যমে সম্প্রতি তাদের বিয়ে হয়।

এই বিয়ে মেনে নিতে না পেরে ফিরোজ ও তার শাশুড়ি ফাতেমা বেগম রাজুর ওপর চরম ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। একাধিকবার স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা হলেও তা ব্যর্থ হয়। এরপর তারা রাজুকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রাসেল জানান, পরিকল্পনা অনুযায়ী ২১ জানুয়ারি রাতে ফিরোজ কৌশলে রাজুকে তার স্ত্রীর জন্য একটি থ্রি-পিস দেওয়ার কথা বলে খনখাইয়া খালের পাড়ে ডেকে নেন। সেখানে ধারালো ছুরি দিয়ে রাজুর পেট, গলা ও পিঠে একাধিক আঘাত করা হয়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

হত্যার পর মরদেহ খালের ঢালে বালিচাপা দেওয়া হয় এবং ব্যবহৃত ছুরিটি পানিতে ফেলে দেওয়া হয়। রাজুর সঙ্গে থাকা থ্রি-পিসটি পাশের সেগুন বাগানে ফেলে দিয়ে ফিরোজ প্রথমে ঢাকায় এবং পরে কুমিল্লায় আত্মগোপনে যান।

তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) কুমিল্লার কোতোয়ালী থানার পাঁচথুবি এলাকা থেকে ফিরোজকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরে ফাতেমা বেগমকেও গ্রেপ্তার করা হয়। একই সঙ্গে খাল থেকে ছুরি এবং সেগুন বাগান থেকে থ্রি-পিস উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, মামলার তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেয়ার করুন