শুক্রবার, ৬ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ত্বক–চুলের যত্নে অবহেলিত সুপারফুড ট্যাংরা মাছ

বাঙালির পাতে মাছ মানেই আবেগ। রুই–কাতলা যেমন পরিচিত, তেমনই আমাদের রান্নাঘরে আছে নানা রকম ছোট মাছ—যাদের গুণ অনেক সময় চোখ এড়িয়ে যায়। সেই তালিকায় অন্যতম হলো ট্যাংরা মাছ। স্বাদে হালকা, রান্নায় সহজ এই মাছ পুষ্টিগুণে কিন্তু একেবারেই কম নয়। নিয়মিত ট্যাংরা মাছ খেলে শরীরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উপকার মেলে।

হার্ট সুস্থ রাখতে কার্যকর
ট্যাংরা মাছে থাকা ওমেগা–৩ ফ্যাটি অ্যাসিড হৃদযন্ত্রের জন্য খুবই উপকারী। এটি শরীরের ক্ষতিকর কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি মাছের প্রোটিন সহজে হজম হয় এবং এতে থাকা ভালো ফ্যাট শরীরে জমে না। ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমতে পারে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
এই মাছের আরেকটি বড় গুণ হলো শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো। ট্যাংরা মাছে থাকা খনিজ উপাদান ও উপকারী ফ্যাট শরীরকে ভেতর থেকে শক্তিশালী করে। নিয়মিত মাছ খেলে ডায়াবেটিস ও আর্থারাইটিসের মতো সমস্যার আশঙ্কাও কমে। তাই বয়স্কদের খাদ্যতালিকায় এই মাছ রাখার পরামর্শ দেন পুষ্টিবিদরা।

শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশে সহায়ক
ওমেগা–৩ ফ্যাটি অ্যাসিড মস্তিষ্কের কোষ সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে। ট্যাংরা মাছ স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ বৃদ্ধিতে সহায়ক হওয়ায় শিশুদের বুদ্ধিবিকাশে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

ত্বক ও চুলের সৌন্দর্য ধরে রাখে
মাছ হলো কোলাজেন বৃদ্ধির প্রাকৃতিক উৎস। ট্যাংরা মাছ খেলে শরীরে কোলাজেন উৎপাদন বাড়ে, যা ত্বককে রাখে মসৃণ ও উজ্জ্বল। শুষ্ক ত্বকে আর্দ্রতা ফিরিয়ে আনে এবং চুলকে করে নরম ও প্রাণবন্ত।

চোখের স্বাস্থ্যে উপকারী
চোখ ভালো রাখতে মাছ খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। ট্যাংরা মাছের তেল ও চামড়ায় থাকা পুষ্টিগুণ চোখের রেটিনা সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। নিয়মিত খেলে চোখের শুষ্কতা বা ড্রাই আই সমস্যাও কমতে পারে।

হাড় মজবুত রাখতে সাহায্য করে
ট্যাংরা মাছে রয়েছে ভিটামিন ডি, যা ক্যালসিয়াম শোষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। এর ফলে হাড় শক্ত থাকে এবং হাড়ের ব্যথা বা আর্থারাইটিসের সমস্যা কমতে পারে।

স্বাদে যতই হালকা হোক, গুণে ট্যাংরা মাছ সত্যিই ভারী। হার্ট, ত্বক, চুল, চোখ থেকে শুরু করে হাড়—শরীরের প্রায় সব দিকেই এর উপকারিতা রয়েছে। তাই খাবারের তালিকায় শুধু রুই–কাতলা নয়, মাঝেমধ্যে ট্যাংরা মাছও রাখতেই পারেন।

শেয়ার করুন