শুক্রবার, ৬ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আনোয়ারায় ৬৫০ একর জমিতে দেশের প্রথম ফ্রি ট্রেড জোন

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ফ্রি ট্রেড জোন (এফটিজেড) গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় প্রায় ৬০০ থেকে ৬৫০ একর জমির ওপর এই বিশেষ অর্থনৈতিক জোন স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর বেইলি রোডে বাংলাদেশ ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে বিনিয়োগ প্রচার সংস্থাগুলোর (আইপিএ) গভর্নিং বোর্ডের চতুর্থ সভা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান। সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সেক্রেটারি শফিকুল আলমসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে একই দিনে বিডা, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (মিডা) গভর্নিং বোর্ডের যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় বেজার বোর্ড আনুষ্ঠানিকভাবে ফ্রি ট্রেড জোন গঠনের নীতিগত অনুমোদন দেয়।

সংবাদ সম্মেলনে আশিক চৌধুরী বলেন, প্রস্তাবিত ফ্রি ট্রেড জোনকে কার্যত একটি ‘ওভারসিজ টেরিটরি’ হিসেবে পরিচালনা করা হবে। এখানে কাস্টমস প্রক্রিয়া ছাড়াই পণ্য আমদানি, সংরক্ষণ, উৎপাদন এবং পুনঃরপ্তানির সুযোগ থাকবে। ফলে বাংলাদেশের টাইম টু মার্কেট উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।

তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ থেকে কাঁচামাল এনে দ্রুত উৎপাদন ও রপ্তানির সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষ করে আমেরিকান কটনের ব্যবহার বাড়ানোর সম্ভাবনাও এতে তৈরি হবে।

কেন আনোয়ারাকে এই জোনের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ফ্রি ট্রেড জোন স্থাপনের ক্ষেত্রে সমুদ্র সংযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভৌগোলিক অবস্থান ও যোগাযোগ সুবিধার কারণে আনোয়ারাকেই সবচেয়ে উপযোগী মনে করা হয়েছে। উত্তরাঞ্চলে এ ধরনের জোন স্থাপনের বাস্তব সুযোগ নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

দুবাইয়ের জেবেল আলি ফ্রি জোনকে মডেল হিসেবে অনুসরণ করা হলে আনোয়ারার এই ফ্রি ট্রেড জোন ভবিষ্যতে বাংলাদেশের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন আশিক চৌধুরী।

তিনি জানান, এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে অন্তত ৮টি আইন ও বিধিমালা সংশোধন প্রয়োজন হবে। বিষয়টি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য শিগগিরই মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে।

শেয়ার করুন