শুক্রবার, ৬ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

দুদকের জালে রূপায়ন হাউজিংয়ের চেয়ারম্যানের পরিবার ও ৩৭ রাজউক কর্মকর্তা

রাষ্ট্রীয় আইন লঙ্ঘন করে কাগজ যাচাই না করা ও মাঠপর্যায়ের পরিদর্শন না করেই ভূমি ব্যবহারের ছাড়পত্র, বিশেষ প্রকল্প অনুমোদন এবং নির্মাণ অনুমতি প্রদানের অভিযোগে ৪৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলায় রূপায়ন হাউজিং এস্টেট লিমিটেডের চেয়ারম্যান, স্ত্রী ও ছেলেসহ তার পরিবার এবং রাজউকের ৩৭ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে আসামি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে সংস্থাটির সহকারী পরিচালক আফিয়া খাতুন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। সংস্থাটির মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আসামিরা হলেন- রুপায়ন হাউজিং এস্টেট লিমিটেডের মালিক ও চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খান মুকুল, প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ও তার স্ত্রী রোকেয়া বেগম নাসিমা, ছেলে ও পরিচালক মাহির আলী খান রাতুল, ভাই আলী আকবর খান রতন, মুকুলের ফুফু ও পরিচালক ফরিদা বেগম এবং এস্টেট অফিসার সাজ্জাদ হুসাইন।

অন্যদিকে রাজউকের আসামিরা হলেন- রাজউকের উপ-নগর পরিকল্পনাবিদ কামরুল হাসান সোহাগ ও মো. সিরাজুল ইসলাম, সদস্য (পরিকল্পনা) জিয়াউল হাসান, সদস্য (উন্নয়ন) মো. আব্দুর রহমান, সদস্য (পরিকল্পনা) শেখ আব্দুল মান্নান, প্রধান প্রকৌশলী মো. এমদাদুল ইসলাম, নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোবারক হোসেন ও আব্দুল্লাহ মো. জুবাইর, রেখাকার মো. আলমগীর কবীর, নকশাকার মো. এমদাদুল হক মুনসী, ফটোগ্রাফিক অ্যাসিস্ট্যান্ট এমরান হোসেন সুমন, ড্রাফটসম্যান মো. নাজমুল হক, গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী স্বর্ণেন্দু শেখর মন্ডল, রাজউকের উপ-নগর স্থপতি মোস্তাক আহমদ, পরিচালক মো. রোকন উদদৌলা, গোলাম মোস্তফা, ড. মুহাম্মদ মোশরফ হোসেন, আনন্দ কুমার বিশ্বাস, অথরাইজড অফিসার (সাময়িক বরখাস্ত) মো. মিজানুর রহমান, অথরাইজড অফিসার মো. পারভেজ খাদেম ও মো. আশরাফুল ইসলাম আহমেদ, আইন কর্মকর্তা মো. মাহফুজুল করিম, আইনজীবী ও সহকারী আইন পরামর্শক মোহাম্মদ আব্দুস সাত্তার, সহকারী অথরাইজড অফিসার জান্নাতুল নাইমা, তামান্না বিনতে রহমান, এস এম এহসানুল ইমাম ও মো. খায়রুজ্জামান, প্রধান ইমারত পরিদর্শক মো. আব্দুস সালাম, আবু শামস রকিব উদ্দিন আহমেদ, মো. আব্দুল গনি ও মো. বিল্লাল হোসেন, পরিদর্শক মো. সিরাজুল ইসলাম, ইমারত পরিদর্শক মো. মাসুদুর রহমান, সহকারী পরিদর্শক (এস্টেট ও ভূমি) জ্ঞানময় চাকমা, এস্টেট পরিদর্শক তৌফিকুল ইসলাম, জরিপকার মো. আলী আজগর এবং জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের সহকারী স্থপতি মো. তাওফিকুজ্জামান।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, রাজউকের কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দায়িত্ব পালন না করে রুপায়ন হাউজিং লিমিটেডের আবেদনে ব্যবহৃত রেকর্ডপত্র ও কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করেনি। সংশ্লিষ্ট ভূমি সরেজমিনে পরিদর্শন না করে অপরাধজনক বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে পরস্পর যোগসাজস, ক্ষমতার অপব্যবহার, জাল-জালিয়াতি ও দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধভাবে ভূমি সংস্কার বোর্ড কোডস অব ওয়ার্ডের নামে খতিয়ানভুক্ত সম্পত্তি এবং অভিযোগকারীদের সম্পত্তি যাচাই না করে রুপায়ন হাউজিং এস্টেটের নামে ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্রে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বিশেষ প্রকল্পের ছাড়পত্র প্রদান ও নির্মাণ অনুমোদনসহ যাবতীয় কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য রুপায়ন হাউজিং এস্টেটকে সহযোগিতা করেছে আসামিরা। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯/৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/১০৯ ধারা এবং ১৯৪৭ সনের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

শেয়ার করুন