মুক্তাগাছা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি: ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় গণশুনানিতে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের সেবা নিয়ে অভিযোগ ও পরামর্শ তুলে ধরেছেন সাধারণ নাগরিকরা। এসব অভিযোগের সমাধান এবং প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি প্রতিরোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা।
সোমবার উপজেলা প্রশাসন, সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) ও দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির (দুপ্রক) যৌথ উদ্যোগে স্থানীয় জেলা পরিষদ ডাকবাংলো মাঠে এ গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
সনাক মুক্তাগাছার সভাপতি অধ্যাপক আব্দুস সবুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কৃষ্ণ চন্দ্র এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ময়মনসিংহ জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক রনজিৎ কুমার কর্মকার।
গণশুনানিতে মুক্তাগাছা থানা পুলিশ, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস, সমাজসেবা অফিস, সাব-রেজিস্ট্রার অফিস, ভূমি অফিস ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তারা অংশ নেন। তারা সেবাগ্রহীতাদের বিভিন্ন প্রশ্নের সরাসরি জবাব দেন।
প্রায় চার শতাধিক সাধারণ নাগরিকের অংশগ্রহণে ১৭ জন অভিযোগকারী এসব প্রতিষ্ঠানের সেবা নিয়ে মোট ২৩টি অভিযোগ ও পরামর্শ তুলে ধরেন।
গণশুনানিতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) লুবনা আহমেদ লুনা, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুমন কান্তি সাহা, মুক্তাগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা কবিতা নন্দী, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাকিয়া আক্তার, সাব-রেজিস্ট্রার এস এম শফিউল বারী এবং উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার প্রতিনিধি হাবিবুর রহমান বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।
টিআইবির এরিয়া কো-অর্ডিনেটর মো. দেলোয়ারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান ও সনাক সদস্য এম ইদ্রিছ আলী। এ সময় উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা জামাল উদ্দিন আকন্দসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
গণশুনানিতে অভিযোগকারীরা সরকারি দপ্তর থেকে সেবা নিতে হয়রানি, স্বজনপ্রীতি, দালালের দৌরাত্ম্য, সেবা পেতে বিলম্ব, ঘুষ দিতে বাধ্য করা, নামজারি বা খারিজের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, রসিদ ছাড়া অর্থ লেনদেন, কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতি, অফিস সময়সূচি না মানা, দায়িত্বে অবহেলা, অভিযোগ ও পরামর্শ বক্স না থাকা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং সেবাগ্রহীতাদের প্রতি মনোযোগের ঘাটতির অভিযোগ করেন।
এ ছাড়া তথ্য প্রকাশে অনীহা, অফিসের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ঘাটতি, মাদক নিয়ন্ত্রণ, যানজট নিরসন, অবৈধভাবে ফুটপাত দখলমুক্ত করা এবং প্রশাসনিক ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসনের দাবিও তুলে ধরেন অংশগ্রহণকারীরা।
দুদকের উপপরিচালক রনজিৎ কুমার কর্মকার উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দেন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে অভিযোগের সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কৃষ্ণ চন্দ্র।
তিনি দুর্নীতি হ্রাস, নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিকারে বিদ্যমান আইন ও বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহারের পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে যেকোনো অভিযোগের সমাধানে দ্রুত তার দপ্তরে জানানোর জন্য নাগরিকদের উৎসাহিত করেন।
গণশুনানির আগে আন্তর্জাতিক তথ্য জানার অধিকার দিবস উপলক্ষে ওয়েব পোর্টাল স্টাডির প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। এ ছাড়া দিবসটি উপলক্ষে তথ্য অধিকারবিষয়ক ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হয়।









