সিগারেটের কর কাঠামো নিয়ে বিতর্ক

দেশের বড় সিগারেট কোম্পানিগুলো এড-ভেলোরেম ব্যবস্থার পরিবর্তে একটি ‘সুনির্দিষ্ট কর কাঠামো’ চালুর জন্য তদ্বির বা লবিং করছে, যার অধীনে সরকার একটি স্থায়ী কর হার নির্ধারণ করবে আর কোম্পানিগুলো তাদের পছন্দমতো খুচরা মূল্য ঠিক করবে। তাদের পক্ষ হয়ে বিভিন্ন সংগঠনও একই দাবি তুলেছিল এই যুক্তিতে যে, এতে সরকারের রাজস্ব আদায় বাড়বে।

কিন্তু এনবিআরের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমরা হিসাব করে দেখেছি, তাদের ফর্মুলা অনুযায়ী স্পেসিফিক ট্যাক্স করা হলে সরকারের রাজস্ব আদায় না বেড়ে বরং যা পায়, তার চেয়ে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা কমে যেতে পারে। তাই সুনির্দিষ্ট কর ব্যবস্থা গ্রহণের সম্ভাবনা খুবই কম।”

সুনির্দিষ্ট কর ব্যবস্থার অধীনে কোম্পানিগুলো মূলত নিজেদের মুনাফা বাড়াতে ইচ্ছেমতো দাম সমন্বয় করার সুযোগ পেতে পারে। কিছু বিশেষজ্ঞও এই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে যুক্তি দিয়েছেন যে, এর ফলে মূল্য পরিবর্তনের মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধির সক্ষমতা হ্রাস পেতে পারে।
বর্তমানে ভ্যাট এবং সম্পূরক শুল্কসহ তামাকজাত পণ্য থেকে বছরে মোট রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ ৪০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রিমিয়াম, উচ্চ, মাঝারি এবং নিম্ন—এই চার স্তরেই সিগারেটের দাম বাড়তে পারে। সরকার এই মূল্যস্তরগুলো নির্ধারণ করে এবং ভ্যাট, সম্পূরক শুল্ক ও স্বাস্থ্য সারচার্জসহ চূড়ান্ত মূল্যের প্রায় ৮৩ শতাংশ কর হিসেবে আদায় করে। সিগারেটের খুচরা পর্যায়ের দাম সরকার নির্ধারণ করে দেয়। দাম বাড়লে স্বাভাবিকভাবেই সরকারের রাজস্বের পরিমাণ বাড়ে, যা এড-ভেলোরেম নামে পরিচিত।

স্বাস্থ্য খাতের এই কর ছাড়ের পাশাপাশি, ‘সিন ট্যাক্স’ বাড়ানোর মাধ্যমে তামাকজাত পণ্যের দাম বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। এর মাধ্যমে আগামী অর্থবছর অতিরিক্ত ৬ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এদিকে, আগামী বাজেটে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত মদের ওপর প্রতি লিটারে ৪০০ টাকা সুনির্দিষ্ট ভ্যাট আরোপ করা হতে পারে।

শেয়ার করুন