বান্দরবান জেলার লামা ও আলীকদম এবং পাশ্ববর্তী চকরিয়া উপজেলায় তামাক ক্রয় নিয়ে বিট্রিশ আমেরিকান টোবাকো ‘র প্রতারণা

বান্দরবান জেলার লামা ও আলীকদম উপজেলা এবং পাশ্ববর্তী কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলায় তামাক চাষ একটি দীর্ঘদিনের প্রচলিত কৃষি কার্যক্রম। অধিক লাভের আশায় বহু কৃষক তামাক চাষে জড়িয়ে পড়লেও সাম্প্রতিক সময়ে তামাক ক্রয় প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে ব্যাপক অনিয়ম, প্রতারণা ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় তামাক চাষীদের অভিযোগ অনুযায়ী: তামাক কোম্পানিগুলো সরাসরি চাষীদের কাছ থেকে তামাক ক্রয় না করে দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীদের মাধ্যমে কম মূল্যে গোপনে তামাক সংগ্রহ করছে বিট্রিশ আমেরিকান টোবাকো বাংলাদেশ। ক্রয় কেন্দ্র (বাইন কোট)-এ তামাক বিক্রি করতে গেলে ওজনে কারচুপি ও বিভিন্ন অজুহাতে তামাকের মান খারাপ দেখিয়ে ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। তাছাড়া চাষীদেরকে অযৌক্তিকভাবে অপেক্ষা করানো, হয়রানি করা ও চাপ প্রয়োগের অভিযোগ রয়েছে।

অধিক লাভের আশায় তামাক কোম্পানির প্রলোভনে পড়ে অনেক চাষী এনজিও ও মহাজনদের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে তামাক চাষ করেছেন। কিন্তু মৌসুমে ন্যায্য দামে তামাক বিক্রি করতে না পারায় তারা ঋণের বোঝায় জর্জরিত হয়ে পড়েছেন। এতে তাদের অর্থনৈতিক সংকট ও মানবিক দুর্ভোগ বাড়ছে।

পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হলেও বন উজাড়, মাটি উর্বরতা হ্রাস এবং পানি সংকটের সঙ্গে জড়িত তার পরেও বিকল্প আয়ের অভাব ও কোম্পানির প্রলোভনের কারণে তারা এই চাষে যুক্ত থাকছেন এমনটা স্বীকার করেন তামাক চাষীরা।

এদিকে, এসব অনিয়ম ও প্রতারণার কারণে জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণ না করা হলে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয় জনগণ ও ভুক্তভোগী চাষীদের এই দাবিগুলো শুধু ন্যায্যই নয়, সময়োপযোগীও। তামাক ক্রয় কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে কৃষকরা বারবার ক্ষতির মুখে পড়বে। উপজেলা প্রশাসনের কার্যকর তদারকি, সঠিক ওজন ও ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ, এবং দালাল-সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এখন জরুরি হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত চাষীদের সহায়তা প্রদান এবং বিকল্প লাভজনক কৃষি ব্যবস্থার প্রসারই পারে এই সংকট থেকে স্থায়ী সমাধান এনে দিতে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।

লামা, আলীকদম ও চকরিয়া অঞ্চলে তামাক চাষীদের সঙ্গে প্রতারণা ও কারচুপির অভিযোগ একটি গুরুতর সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

শেয়ার করুন