শুক্রবার, ২৭শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

খাল খনন কর্মসূচিতে বড় আকারের বাজেট রাখা হয়েছে: অর্থমন্ত্রী

চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, সারাদেশে খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য বড় আকারের বাজেট বরাদ্দ রাখা হয়েছে। সব ধরনের হিসাব-নিকাশ করেই এ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে এবং প্রতিটি প্রকল্পই খরচ নির্ধারণ ও বাজেট বরাদ্দের মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে গ্রহণ করা হয়েছে।

সোমবার (১৬ মার্চ) বিকেলে মীরসরাইয়ে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী সারাদেশে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে আগামী ছয় মাসের মধ্যে প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার খাল খননের কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এত বড় কর্মসূচি একদিনে শেষ করা সম্ভব নয়, তাই ধাপে ধাপে কাজ বাস্তবায়ন করা হবে।

তিনি বলেন, আমরা যদি ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন সম্পন্ন করতে পারি, তাহলে বাংলাদেশের চিত্রই বদলে যাবে। এর মাধ্যমে কৃষি, পরিবেশ ও স্থানীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

মন্ত্রী আরও বলেন, একটি খালের কাজ সম্পন্ন হলে প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর জমি নতুন করে চাষাবাদের আওতায় আসতে পারে। এতে প্রায় পাঁচ হাজার টন অতিরিক্ত খাদ্য উৎপাদন সম্ভব হবে, যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার করতে সহায়ক হবে।

দেশের বিভিন্ন স্থানে খাল দখলের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, অনেক খাল অবৈধভাবে দখল হয়ে গেছে। ইতিমধ্যে এসব খালের সীমানা নির্ধারণের কাজ শুরু হয়েছে। যেখানে সরকারের খালের মালিকানা রয়েছে, সেখানে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী দখল করে রাখতে পারবে না। সীমানা নির্ধারণের পর সেই অনুযায়ী খনন কাজ পরিচালনা করা হবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য উন্নয়ন প্রকল্পগুলো স্বচ্ছতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করা এবং দুর্নীতির সুযোগ কমিয়ে আনা। কৃষি কার্ড, ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মতো খাল খনন প্রকল্পও মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের অংশ হিসেবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

এ সময় ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এবং চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন