নগর, শহর, গ্রাম সর্বত্র আছে চাঁদাবাজদের ঘাঁটি। বেশির ভাগ ভুক্তভোগী প্রাণভয়ে মুখও খুলছেন না। চলছে নীরবে চাঁদাবাজি। পরিস্থিতি এমন, যে কেউ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গুটিয়ে নিচ্ছেন।
কেউ পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুর বিভাগের বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নিয়ে এমন পরিস্থিতির কথা জানা গেছে। রাজধানীর বাইরে বিভিন্ন জেলায় মামলা বা অপহরণের ভয় দেখিয়েও চাঁদাবাজি চলছে।
চট্টগ্রামে গত ২৮ সেপ্টেম্বরে নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানার কুয়াইশ রোডের উত্তরা হাউজিং এলাকায় ছয় কাঠার প্লটে জমির মালিকরা একটি বহুতল ভবন তৈরির কাজ শুরু করেন।
এরপর সন্ত্রাসী সাজ্জাদ হোসেনের সহযোগী ইমন পরিচয় দিয়ে ভবন মালিকের কাছে ১৫ লাখ টাকা চাঁদা চাওয়া হয়। কিন্তু চাঁদা না পেয়ে দফায় দফায় হামলা চালানো হয় বাড়িটিতে। এই ঘটনায় গত ২৮ সেপ্টেম্বর ভবন মালিকদের একজন জহিরুল ইসলাম মামলা করেন। জানা গেছে, ঘটনার দিন ভবনের পাইলিংয়ের কাজ করছিলেন শ্রমিকরা।
ওই সময় ১০-১২ জন যুবক পিস্তল, রামদা ও কিরিচ নিয়ে হামলা করে। ভাঙচুর করা হয় নিমার্ণসামগ্রী। পুলিশ অভিযান চালিয়ে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছিল। চট্টগ্রাম মহানগরীর চান্দগাঁও, বায়েজিদ বোস্তামী, পাঁচলাইশ, বাকলিয়াসহ বিভিন্ন জায়গায় নির্মীয়মাণ ভবনে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গ্রুপের নাম চাঁদাবাজি করা হচ্ছে। এ ছাড়া নতুন বাড়ি নির্মানে রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরাও চাঁদা আদায় করছে।
মহানগরীর প্রধান সড়কগুলোর ফুটপাতে হকারদের কাছ থেকে দোকানের আকার ও অবস্থানের ভিত্তিতে দৈনিক ২৫০ থেকে এক হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা নেওয়া হচ্ছে। চট্টগ্রামের নিউমার্কেট, আমতল, বহদ্দারহাট, জিইসি, আগ্রাবাদ, চকবাজার মুরাদপুর, ইপিজেড, বন্দরটিলা, রেলওয়ে স্টেশন এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় ফুটপাত দখল করে হাজার হাজার অবৈধ দোকান বসানো হয়েছে। এসব কেন্দ্র করে নীরবে চাঁদাবাজি করছে রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা।
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) মো. রইছ উদ্দিন বলেন, চলতি বছরের ১১ মাসে চট্টগ্রাম নগরীর ১৬ থানায় চাঁদাবাজির অভিযোগে ৪১ মামলা করা হয়েছে। এসব মামলায় ২৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে চাঁদাবাজি চক্রের হাতবদল হয়েছে। একাধিক শিল্প মালিক জানান, বর্তমানে চাঁদাবাজি এমন অবস্থায় পৌঁছেছে যে কেউ কারো কথা শুনছে না। প্রথমে মামলা কিংবা নাশকতার ভয় দেখিয়ে চাঁদা দাবি করা হতো। একজনকে টাকা দিয়ে ঝামেলা মেটানো মাত্রই আরেক গ্রুপ এসে নতুন করে চাঁদা চাইত। এমনকি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সহযোগিতার অভিযোগ তুলে অনেকের নামে মামলা পর্যন্ত হয়েছে। মডেল গ্রুপের মালিক মাসুদুজ্জামান মাসুদ বলেন, ‘এটা ‘যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। ক্ষমতা বদল হলে চাঁদাবাজির হাতও বদলে যায়।’
বাংলাদেশ হোসিয়ারি সমিতির সভাপতি বদিউজ্জামান বদু বলেন, ‘চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ হয়ে আমরা ব্যবসায়ীদের নিয়ে লাঠি মিছিলও করেছি।”
সম্প্রতি কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার হিলচিয়া বাজারে একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের তিন ম্রমিককে তিন ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রেখে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন উপজেলা ও ইউনিয়নের একটি দলের দুই নেতা।





